সিজারিয়ান অপারেশনে নবজাতকের মাথায় ক্ষত

ছবি: আগামীর সময়
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় নবজাতকের মাথা কেটে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি ক্লিনিক ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নবজাতক ও প্রসূতি মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে।
রবিবার সকালে নবজাতকের বাবা আলম মিয়া ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এ ঘটনায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কচাকাটা থানার খামারটারী এলাকার বাসিন্দা আলম মিয়ার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী লাইলী বেগম (২৬) প্রসববেদনা নিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সীমান্ত ক্লিনিকে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেয়।
পরিবারের সদস্যরা ৯ হাজার ৫০০ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে একজন অভিজ্ঞ নারী চিকিৎসকের মাধ্যমে অপারেশন করানোর অনুরোধ জানান। তবে তাদের অভিযোগ, নারী চিকিৎসকের পরিবর্তে কে. এম. রায়হান-উল-ইসলাম নামে এক পুরুষ চিকিৎসক দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অপারেশনের সময় নবজাতকের মাথার ডান পাশে প্রায় এক ইঞ্চি দীর্ঘ কাটা লাগে। পরে বিষয়টি আড়াল করতে দ্রুত সেখানে সেলাই দেওয়া হয়। নবজাতকের মাথায় ব্যান্ডেজ ও সেলাই দেখে স্বজনরা কারণ জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্বজনদের দাবি, মা ও নবজাতকের অবস্থার অবনতি হলে তাদের সরকারি হাসপাতালে রেফার করার জানানো হয় অনুরোধ। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাতে রাজি না হয়ে বিল পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পরে নবজাতকের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের পর পুলিশি হস্তক্ষেপে নবজাতক ও তার মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক কে. এম. রায়হান-উল-ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজারের সময় নবজাতকের মাথা কেটে যাওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে। তবে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
সীমান্ত ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মজিদ বললেন, নবজাতকের চিকিৎসার ব্যয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বহন করবে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেছেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সাজ্জাদ মোহাম্মদ সায়েম উল্লেখ করেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। খোঁজ নিয়ে গ্রহণ করা হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।




