ইসরায়েলে হামলা ইরানের
ইরানকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান ট্রাম্পের

সংগৃহীত ছবি
ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলমান কূটনৈতিক আলোচনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি আলোচনার অগ্রগতিতে সহায়ক হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ যথেষ্ট হয়েছে, এখন আলোচনায় ফিরে গিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো উচিত।’
একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, বৈরুতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা নিয়েও সন্তুষ্ট নন তিনি।
এর আগে ইসরায়েলের দিকে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। হামলার পর দেশটির বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কাজ করছে বলেও জানানো হয়। পরে সেনাবাহিনী দাবি করে, ভূপাতিত করা হয়েছে ইরান থেকে ছোড়া সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্র। তবে একই সঙ্গে আরও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শনাক্তের কথাও জানায় তারা।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর উত্তর ইসরায়েলের হাইফাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেজে ওঠে সতর্কতামূলক সাইরেন। এর কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে তাদের প্রাণঘাতী হামলার পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামলা হতে পারে ইসরায়েলের দিকেও। কেননা ওই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানি কর্মকর্তারাও।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দাবি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। আইআরজিসির ভাষ্য, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে পরিচালিত হামলার উৎস ছিল এই বিমানঘাঁটি।
ইরানি সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের কমান্ডারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী সতর্কতা সত্ত্বেও বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে হামলা চালিয়ে এবং দক্ষিণ লেবাননে আক্রমণ বাড়িয়ে ‘সব বিপদসীমা’ অতিক্রম করেছে ইসরায়েল। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা আগে সতর্ক করেছিলাম, বৈরুতের উপশহরে অপরাধমূলক হামলা হলে, দখলকৃত ভূখণ্ডের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানব আমরা।’ আরও বলা হয়, কে দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের উপশহরে হামলা বন্ধ করতে হবে ইসরায়েলি বাহিনীকে। নয়তো পড়তে হবে ‘আরও কঠোর ও দুঃখজনক আঘাতের’ মুখে।
এদিকে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘অবশ্যই আজ রাতে তেহরানে জ্বলবে আগুন!’
অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে অব্যাহত রয়েছে ইসরায়েলি হামলা। লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা বলছে, নাবাতিয়েহ জেলার জিফতা ও আল-নামিরিয়ার মধ্যবর্তী সড়কে হায়দার ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুইজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। একই জেলার দুয়েইর এলাকায় নিজ বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন হাসান আলি হোতাইত নামের এক তরুণ। এছাড়া আল-শারকিয়া, তালাত আল-রাহাব, হারুফ-তুল এলাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে চালানো হয়েছে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ। কফার তেবনিত এলাকায় আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ফসফরাস গোলা ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
গাজা সিটিতেও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা বলছে, আল-নাসর এলাকার আল-বুরাক স্কুলের কাছে একটি বেসামরিক যানবাহন ও পথচারীদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।
এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান ‘শুধু আলোচনার পথ বন্ধ করবে না, বরং শত্রুর মুখোমুখি হবে সরাসরি’। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘না যুদ্ধবিরতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, না সংলাপে বিশ্বাসী’ তারা।
অন্যদিকে এক উচ্চপদস্থ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে আল-জাজিরা, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে ওয়াশিংটন। এমনকি লেবাননের সরকারের পাশেও রয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের কর্মকর্তাদের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আলোচনায় থাকা শর্তগুলো ন্যায্য এবং সংঘাতের অবসানে একটি সুস্পষ্ট পথ দেখায়।’ তার দাবি, লেবাননে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তার দায় একমাত্র হিজবুল্লাহরই।




