লেবাননে আরও ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক’ হামলার আহ্বান ট্রাম্পের

ছবি: রয়টার্স
লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক’ হামলার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে লেবানন সংঘাত অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তিনি করছেন না। রবিবার সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন তিনি।
শুক্রবার ধারণ করা এবং এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সম্প্রচারিত সাক্ষাৎকারের প্রতিলিপি অনুযায়ী ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলা দেখতে চাই। আমার মনে হয় হামলাগুলো আরও লক্ষ্যভিত্তিক হওয়া উচিত।’
তিনি আরও বললেন, ‘আমি চাই লেবাননের মানুষের জীবন আরও ভালো হোক।’
রবিবার ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে হামলা চালায়। ইরানপন্থি হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় হামলার বিষয়ে ইসরায়েল দাবি করে, তাদের ভূখণ্ডে চালানো হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও সহিংসতার ধারাবাহিকতা থামেনি।
ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি কি ইরান চুক্তির অংশ হিসেবে লেবানন ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করছেন কি না। জবাবে তিনি বলেছেন, ‘না, না। একেবারেই না। আমি কোনো দাবি করছি না। আমার মনে হয় তারা এটা দেখতে চাইতে পারে, কিন্তু আমি এমন কোনো দাবি করছি না।’
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি লেবানন ইস্যুকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয় থেকে ‘আলাদা’ রাখতে চান। তবে দুই সংঘাতকে একসঙ্গে যুক্ত করতে চায় তেহরান।
গত সপ্তাহে দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান নিয়ে তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে ঘনিষ্ঠ মিত্র নেতানিয়াহুকে তিরস্কারও করেছিলেন তিনি।
সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে আবার সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে বহু ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং ৩ হাজার ৫৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে লেবাননে ২৯ জন সেনা ও একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি অভিযানের প্রথম ধাপে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করলে লেবানন বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে ১৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি কখনোই পুরোপুরি মানা হয়নি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, সাবেক জিহাদি এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা লেবানন সংঘাত নিয়ে একটি সমঝোতা গড়ে তুলতে ‘সহায়তা করতে আগ্রহী’।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা সিরিয়াকে সুপারিশ করতে পারি। সিরিয়া নিজেদের পরিস্থিতি ঠিক করার ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করছে। তাদের একজন খুব ভালো নেতা রয়েছে। এবং তিনি সহায়তা করতে আগ্রহী হবেন।’




