ইফাদ অটোজ
সুদ ব্যয় কমাতে এসে ঋণ বৃদ্ধি ১৮৮৪ কোটি টাকা

সুদজনিত ব্যয় কমানো ও ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল ইফাদ অটোজ পিএলসি। তবে তালিকাভুক্তির ১১ বছর পর দেখা যাচ্ছে কোম্পানিটির ঋণ কমার বদলে উল্টো ১ হাজার ৮৮৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানিটির মুনাফা ও লভ্যাংশ যেমন কমেছে, তেমনি পণ্য বিক্রিতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। ফলে শেয়ারবাজারে আসার ঘোষিত উদ্দেশ্য ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য স্পষ্ট।
শেয়ারবাজারে আসার মূল লক্ষ্য ঋণ কমানো হলেও বাস্তবে তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিটির দায় আরও ব্যাপক হারে বাড়ে। প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩০ জুন ইফাদ অটোসের মোট ঋণ ও লিজ দায় ছিল ১ হাজার ৪০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে তা বেড়ে ২ হাজার ৯২৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকায় উন্নীত। অর্থাৎ ১১ বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ঋণ ও লিজ দায় বাড়ে ১ হাজার ৮৮৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বা ১৮১ শতাংশ। ঋণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সুদজনিত ব্যয়ও ঊর্ধ্বমুখী। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কোম্পানিটির সুদ ব্যয় ১৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা থাকলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫০ কোটি ৪৩ লাখ টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ এ সময়ে সুদ ব্যয় বৃদ্ধির হার ২৩৯ শতাংশ।
অথচ ২০১৫ সালে আইপিওর মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে কোম্পানিটি। প্রতিটি শেয়ারে ২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ইস্যু মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এই অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ ঋণ পরিশোধ এবং অ্যাসেম্বলিং ও বডি বিল্ডিং ইউনিট নির্মাণে ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন আগামীর সময়কে বললেন, অধ্যাপক খায়রুল হোসেন ও অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতের নেতৃত্বাধীন দুই কমিশনের সময়ে কৃত্রিম আর্থিক হিসাব দেখিয়ে অনেক কোম্পানিকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করা হলেও নেওয়া হয়নি যথাযথ ব্যবস্থা।
শেয়ারবাজারে আসার আগে কোম্পানিটির আর্থিক চিত্র বেশ আকর্ষণীয় ছিল। ২০০৯-১০ অর্থবছরের ৪৫৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি মাত্র চার বছরে ৮০ শতাংশ বেড়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৮১৫ কোটি ২৮ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। অথচ তালিকাভুক্তির ১১ বছরে বিক্রি বাড়ে মাত্র ৯ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য বিক্রির পরিমাণ ৮৯২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বিক্রির এই ধীরগতির প্রভাব পড়ে মুনাফাতেও। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ৫ টাকা ১৬ পয়সা ও নিট মুনাফা ৪৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা থাকলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা নিট লোকসানে পড়ে। মূলত মুনাফা কমার এ প্রবণতা দীর্ঘদিনের।
বিক্রি ও মুনাফায় স্থবিরতা থাকলেও এ সময়ে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১৮৬ শতাংশ বেড়ে ২৬৮ কোটি ২৫ লাখ টাকায় উন্নীত হয়। অথচ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ কমতে কমতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাত্র ২ শতাংশে নেমে আসে, যা ইস্যু মূল্যের বিবেচনায় শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ।
এসব বিষয়ে জানতে গত ৩০ জুন থেকে ইফাদ অটোসের কোম্পানি সচিব মো. সাজ্জাদ হোসাইন তালুকদারের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হয়। তবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।






