মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা শেয়ারবাজারে
- এক দিনে কমেছে প্রায় ১০০ পয়েন্ট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশব্যাপী গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও সতর্কতা বিরাজ করছে। এর ফলে দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতন অব্যাহত। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) রীতিমতো ধস নেমেছে। শুরু থেকেই বাজারে পতন দেখা যাওয়ায় আতঙ্কে থাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লোকসান কমাতে তাদের শেয়ার বিক্রি করে দেন। ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক প্রায় সাড়ে তিন মাসের মধ্যে নেমে গেছে সর্বনিম্ন অবস্থানে।
চলতি বছরের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৪ হাজার ৯১০ পয়েন্টে নেমে গিয়েছিল। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাজার ঘুরে দাঁড়ায় এবং সূচক ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্ট পার হয়, যা দীর্ঘদিনের মন্দায় থাকা বিনিয়োগকারীদের বড় লোকসান খানিকটা কমিয়ে আনে। বর্তমান বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান দায়িত্ব নেওয়ার আগে গত ৩ জুন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫৪৪২ পয়েন্ট, যা গতকাল ৯৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫৪১৯ পয়েন্টে। অর্থাৎ সূচকটি মাকসুদ কমিশনের রেখে যাওয়া অবস্থান থেকেও নিচে নেমে গেছে। গত ৪ জুন বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান মাসুদ খান।
ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের নানা পদক্ষেপের পরও অন্তত স্থিতিশীল থাকার বদলে বাজারের এই টানা পতনকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম। তিনি বললেন, মধ্যপ্রাচ্যের অবনতিশীল যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি বাজারে পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর ঘাটতি রয়েছে। ফলে দরপতনের সময়ে বাজারে টেকসই সাপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে না, আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করছে।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়লেও সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা ১০ মিনিটও টেকেনি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দরপতনের মাত্রা আরও তীব্র হয়। দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪১৮ পয়েন্টে। এ ছাড়া শরিয়াহ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৮৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৭২ পয়েন্টে নেমেছে।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৭টির, কমেছে ৩৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির। তবে সূচক কমলেও লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। ডিএসইতে গতকাল ৫৭১ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ৫৪৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার চেয়ে ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বেশি।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৫০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭১৫ পয়েন্টে। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৫টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩৮টির এবং ১৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল। সেখানে ১৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



