আস্থাহীনতায় সংকট বাড়ছে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক ও লেনদেনের পতনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার শেষ হয়েছে। এদিন অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমার পাশাপাশি টাকার পরিমাণেও লেনদেন কমেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন আগের কার্যদিবসের ৭১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা থেকে ১০৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৬০১ কোটি ৯৭ লাখ টাকায়। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৭৮ কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৬৪৩-এ। শরিয়াহ সূচক ১৬ কমে ১ হাজার ১২৩ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৪ কমে ২ হাজার ১৩০-এ নেমেছে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪টির, কমেছে ৩৫৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টির।
শেয়ারবাজারে টানা সূচক ও লেনদেনের পতন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যে ছোট ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় নতুন করে পুঁজি নিয়ে ফিরেছিলেন, লাগাতার দরপতনে তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়ে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। অন্যদিকে, বাজারের মূল চালিকাশক্তি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও কোনো সুনির্দিষ্ট ইতিবাচক সংকেত না পেয়ে সাইডলাইনে পর্যবেক্ষণকারীর ভূমিকা পালন করছেন। নতুন কোনো ভালো মানের আইপিও আসার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় বাজারে তারল্যের যোগান বাড়ছে না, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটে আরও বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে শেয়ারবাজারকে সুসংগঠিত করতে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি নানামুখী সংস্কারের কথা বললেও বাস্তব চিত্রে তার প্রতিফলন এখনো স্পষ্ট নয়। কাঙ্ক্ষিত ও টেকসই বাজার স্থিতিশীলতার কোনো লক্ষণ না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। কেবল নীতিগত সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে বাজারের রক্তক্ষরণ থামানো সম্ভব নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়করণ, ভালো আইপিওর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ফেরাতে সমন্বিত ও দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপের জরুরি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, সোমাবার ডিএসইতে ২৬ কোটি ২৯ লাখ ১৭ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন করে শীর্ষে উঠে এসেছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। ১৮ কোটি ৯২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে সায়হাম টেক্সটাইল মিলস এবং ১৮ কোটি ৮৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এম এল ডাইং লিমিটেড।
শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো ফার কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট কোম্পানি, রানার অটো, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি।
শেয়ার দর পতনের শীর্ষে ফু-ওয়াং ফুড লিমিটেড, যার দর কমেছে ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। কোম্পানিটি ৪৩৩ বারে ৭৬ লাখ টাকা মূল্যের ৭ লাখ ৫৫ হাজার ৮৩৫টি শেয়ার লেনদেন করেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এমএল ডাইংয়ের দর কমেছে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ (১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের ১ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ২৫৬টি শেয়ার) এবং তৃতীয় স্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের দর কমেছে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ (২৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা মূল্যের ৭৭ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৫টি শেয়ার)।
তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে তুং-হাই নিটিংয়ের ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ, আমরা টেকনোলজির ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ফার কেমিক্যালের ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ, শমরিতা হসপিটালের ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ, রিজেন্ট টেক্সটাইলের ৮ দশমিক ৮২ শতাংশ, প্রিমিয়ার লিজিংয়ের ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ড্রাগন সোয়েটারের ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ দর কমেছে।
শেয়ার দর বৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে একমি পেস্টিসাইড লিমিটেড, যার দর বেড়েছে ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। কোম্পানিটি ১ হাজার ৬৫৭ বারে ৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ২৯ লাখ ৫০ হাজার ১১৪টি শেয়ার লেনদেন করেছে। ২ দশমিক ১১ শতাংশ দর বেড়ে দ্বিতীয় স্থানে বেক্সিমকো (১৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা মূল্যের ৫৬ লাখ ১৫ হাজার ৪৩১টি শেয়ার) এবং ২ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে তৃতীয় স্থানে ডমিনেজ স্টিল (১ কোটি ৬০ লাখ টাকা মূল্যের ১৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩৬৬টি শেয়ার)।
এ ছাড়া দর বেড়েছে আইএফআইএল ইসলামিক মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ, সায়হাম টেক্সটাইলের ০ দশমিক ৯৬ শতাংশ, আরএকে সিরামিকের ০ দশমিক ৬৪ শতাংশ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ, ম্যারিকোর শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ এবং ইবনে সিনার শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭৩ কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ২৫৫-এ। সেখানে ১৪ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১টির দর বেড়েছে, ১৫৯টির কমেছে এবং ১১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।






