নিলামপ্রক্রিয়া ও সুদ বকেয়া নিয়ে টেকনো ড্রাগের ব্যাখ্যা

লোগো
ব্যাংকঋণের সুদ বাবদ ১২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বকেয়া এবং ব্যাংকের নিলামপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে শেয়ারবাজারে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি টেকনো ড্রাগস লিমিটেড। কোম্পানিটি জানিয়েছে, গত দুই বছর সরকারি দরপত্রের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় তাদের নগদ অর্থপ্রবাহে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। এর ফলে ব্যাংকঋণের সুদ পরিশোধে বিলম্ব হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক নিলামপ্রক্রিয়া শুরু করেছিল— এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ে তারা অবগত ছিল না বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই-সিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোম্পানিটির ব্যাখ্যায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
কোম্পানিটি জানায়, গত ৭ অক্টোবর অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে দেওয়া ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ অক্টোবর ডিএসই আরও তথ্য জানতে চায়। এর জবাবে টেকনো ড্রাগস তাদের ব্যবসায়িক পরিস্থিতি, ব্যাংকঋণের সুদ বকেয়া এবং নিলামপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। ব্যাখ্যায় কোম্পানিটি আরও জানায়, এ বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করার বিষয়টি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ছিল বলে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
টেকনো ড্রাগসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকঋণের সুদ বাবদ কোম্পানিটির মোট দায়ের পরিমাণ ২১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে এখনো ১২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা সুদ বকেয়া রয়েছে। কোম্পানিটির দাবি, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় ব্যাংকঋণের সুদ পরিশোধে বিলম্ব হয়েছে। গত দুই বছর সরকারি দরপত্রের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় কোম্পানির নগদ অর্থপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এ পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের প্রধান ব্যবসা ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ। বিশেষ করে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী উৎপাদন করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এসব পণ্য ঐতিহাসিকভাবে সরকারি দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে আসছে। তবে গত দুই বছর সরকারি দরপত্রের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে নগদ অর্থপ্রবাহে। ফলে নিয়মিত আর্থিক দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হয় বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
টেকনো ড্রাগসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সরকারি দরপত্রের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি তাদের ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ প্রক্রিয়ায় বিক্রি বন্ধ থাকায় নগদ অর্থের প্রবাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা ব্যাংকঋণের সুদ পরিশোধেও প্রভাব ফেলেছে।
ব্যাংকের নিলামপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে নিজেদের অবস্থানও তুলে ধরেছে টেকনো ড্রাগস। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ব্যাংক যখন নিলামপ্রক্রিয়া শুরু করেছিল, তখন এ বিষয়ে তারা অবগত ছিল না। তবে কোন ব্যাংক নিলামপ্রক্রিয়া শুরু করেছে, কী ধরনের সম্পদ নিলামের আওতায় আনা হয়েছে কিংবা এ প্রক্রিয়া বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে— এসব বিষয়ে প্রকাশিত ব্যাখ্যায় বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।



