লাভ বেশি বীমায়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বড় দরপতনের ধাক্কা কাটিয়ে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ইতিবাচক ধারা ফিরে এসেছে। এই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধারায় বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে সাধারণ বীমা খাত। ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত সপ্তাহের বাজার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ রিটার্ন দিয়ে সপ্তাহ শেষে শীর্ষ লাভজনক খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বীমা খাত।
বিগত সপ্তাহের মন্দাভাব সামলে বাজারে যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি সুফল পড়েছে এই খাতের শেয়ারগুলোতে। শেয়ারবাজারের সাধারণ ক্রয়চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সাময়িক বিরতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বস্তি এনে দেয়। এই বৈশ্বিক আশাবাদ দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বীমা খাতের শেয়ার কেনাবেচা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
খাতটির এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে কোম্পানিগুলোর ভালো আয়ের সম্ভাবনা এবং আকর্ষণীয় মূল্যস্তর। বাজারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে তৈরি হওয়া নতুন আশাবাদ এবং খাতের ফরোয়ার্ড পিই রেশিও ১৬.৫-এ অবস্থান করায় শেয়ারগুলো বিনিয়োগের জন্য দারুণ নিরাপদ ও লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১০.১ শতাংশ স্থান এককভাবে দখল করে নেয় সাধারণ বীমা খাত। যা দরপতনের পর বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের এক স্পষ্ট বার্তা দেয়।
সপ্তাহজুড়ে এই খাতের লেনদেনে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রথম সারির বেশ কয়েকটি কোম্পানি। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় সাধারণ বীমা খাতের গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, রিল্যায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স এবং পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের মতো হেভিওয়েট কোম্পানিগুলোর শেয়ার ক্রয়ে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। এসব কোম্পানিতে প্রতিদিন গড়ে কয়েক কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা পুরো খাতের লেনদেনের পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করেছে।
একদিকে ভালো লভ্যাংশ ও আয়ের প্রত্যাশা, অন্যদিকে শেয়ার দর বৃদ্ধি— এই দুইয়ের সমন্বয়ে সাধারণ বীমা খাত বিদায়ী সপ্তাহে শেয়ারবাজারের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়। দরপতনের পর ঘুরে দাঁড়ানো বাজারে বিনিয়োগকারীদের পুনরাসক্তি ও কৌশলগত শেয়ার সংগ্রহের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সাধারণ বীমা খাতই এখন শেয়ারবাজারকে চাঙ্গা রাখতে অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।



