আইপিও বাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পাশের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বাজারে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত টানা দুই বছরে দেশের মূলধারার শেয়ারবাজার কিংবা এসএমই বাজারের কোনোটিতেই নতুন আইপিও অনুমোদন পায়নি। অন্যদিকে একই সময়ে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র লক্ষ করা গেছে। এসব দেশে বিভিন্ন কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে সংগ্রহ করেছে বিপুল মূলধন।
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে টানা দুই অর্থবছর ধরে আইপিও বন্ধ থাকার ঘটনা দেশের ইতিহাসে প্রথমবার এবং এটি লজ্জার রেকর্ড হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে ভারতে মূল বাজারে ১৯৭টি এবং এসএমই বাজারে ৪৭৮টি আইপিও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসবের মাধ্যমে মূল বাজার থেকে ৩ লাখ ৫১ হাজার ২৫৩ কোটি এবং এসএমই বাজার থেকে ২১ হাজার ৭৯৯ কোটি রুপি সংগ্রহ করা হয়েছে।
একই সময়ে ইন্দোনেশিয়ায় মূল বাজারে ৪২টি ও এসএমই বাজারে একটি আইপিওর মাধ্যমে যথাক্রমে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি ও ৩০০ কোটি রুপিয়াহ মূলধন সংগ্রহ করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় মূল বাজারে ২৩টি এবং এসএমই বাজারে ১০৭টি আইপিওর মাধ্যমে যথাক্রমে ১ হাজার ২০ কোটি ও ৬০০ কোটি রিংগিত সংগ্রহ করা হয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশে মূল ও এসএমই উভয় বাজারেই আইপিওর সংখ্যা এবং তহবিল সংগ্রহের পরিমাণ ছিল শূন্য।
২০২৪-২৫ অর্থবছরেও বাংলাদেশে নতুন কোনো আইপিও বাজারে আসেনি। ওই সময়ে ভারতে মূল বাজারে ৭৭টি ও এসএমই বাজারে ২১৬টি, ইন্দোনেশিয়ায় মূল বাজারে ২৯টি ও এসএমই বাজারে একটি এবং মালয়েশিয়ায় মূল বাজারে ১৩টি ও এসএমই বাজারে ৫৩টি আইপিওর কাজ সম্পন্ন হয়।
একইভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও বাংলাদেশের আইপিও বাজারে অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। অথচ ওই সময়ে ভারতে মূল বাজারে ১২০টি ও এসএমই বাজারে ২৬২টি, ইন্দোনেশিয়ায় ১৩টি এবং মালয়েশিয়ায় মূল বাজারে ১০টি ও এসএমই বাজারে ৫৪টি আইপিও সম্পন্ন হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন বিগত কমিশনের অনীহার কারণেই মূলত বাংলাদেশের আইপিও বাজারটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। ফলে বাজারে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ যেমন কমেছে, তেমনি শেয়ারবাজারের গভীরতাও বাড়েনি। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলো আইপিওকে মূলধন সংগ্রহের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে বাজার সম্প্রসারণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
হতাশাজনক এ পরিস্থিতির মধ্যে গত মাসের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়া মাসুদ খানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন আইপিও রুলস পরিবর্তন এবং বাজারকে গতিশীল করার অঙ্গীকার করেছে। সম্প্রতি বিএসইসি চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বাজারের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাবলিক ইস্যু রুলসে যৌক্তিক পরিবর্তন আনা হবে। তার মতে, বিদ্যমান আইন আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব না হলে শেয়ারবাজারের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
মাসুদ খান বলেছেন, বর্তমানে কোনো কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আসতে অনেক কাগজপত্র জমা দিতে হয় এবং অনুমোদন পেতে প্রায় দেড় বছর সময় লেগে যায়। অন্যদিকে ব্যাংক থেকে দ্রুত অর্থায়ন পাওয়া সম্ভব হওয়ায় ভালো প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহ হারায়। এ কারণে আইপিও প্রক্রিয়াকে করা হবে আরও সহজ, দ্রুত ও সময়োপযোগী।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিএসইর সাবেক পরিচালক মো. শাকিল রিজভী আগামীর সময়কে বললেন, ‘দুই অর্থবছর কোনো প্রতিষ্ঠানের আইপিও না আসা অস্বাভাবিক। প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং ব্যাংকঋণ সহজলভ্য হওয়া আইপিও কম আসার অন্যতম কারণ। এ ছাড়া বিগত কমিশনের আইপিও নিয়ে অনীহা ছিল। বাজারের গভীরতা বাড়াতে হলে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে পলিসিগত যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা দূর করতে হবে।’




