কনস্টেলেশন অ্যাসেটের অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে বিএসইসি

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে সদস্যভুক্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কনস্টেলেশন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে আর্থিক ও পরিচালনাগত কার্যক্রম পর্যালোচনায় অনিয়মসহ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রস্তাব উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন সনদ বাতিলের।
এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কনস্টেলেশন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের কার্যক্রম তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটির অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গঠন করা হয়েছে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। গঠিত তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে সময় দেওয়া হয়েছে ৩৫ কার্যদিবস।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে জারি করা হয়েছে এই সংক্রান্ত আদেশ।
গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পরিচালক উম্মে সালমা, সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিটির বিভিন্ন আর্থিক ও পরিচালনাগত কার্যক্রম পর্যালোচনা করে অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা নিরূপণে হবে সহায়ক।
বিএসইসির তদন্তের আদেশ
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মতে, পুঁজিবাজারের বৃহত্তর স্বার্থে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার লক্ষ্যে, কনস্টেলেশন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের নিবন্ধন সনদ বাতিলের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে কিছু বিষয়সমূহ অনুসন্ধান পরিচালনা করা প্রয়োজন। অতএব, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৮৮ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ১৭ক এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তিনজন কর্মকর্তাকে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য নিয়োগ দেওয়া হলো।
তদন্ত কর্মকর্তারা ওই আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন কমিশনের কাছে জমা দেবেন।
যেসব বিষয় অনুসন্ধান করবে তদন্ত কমিটি
কোম্পানির গ্রাহকদের নিকট থেকে প্রাপ্য এবং গ্রাহকদের প্রতি প্রদেয় অর্থের সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করা হবে। যেখানে এক হাজার টাকার বেশি লেনদেনগুলো নেওয়া হবে বিশেষভাবে বিবেচনায়। পাশাপাশি কোম্পানির মোট সম্পদ ও দায়ের সর্বশেষ অবস্থাও করা হবে বিশ্লেষণ।
এছাড়া, সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা, সে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ ও মতামত প্রদান করবেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ অনুযায়ী কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় থাকা বিভিন্ন তহবিলের বর্তমান অবস্থা ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি, তদন্ত চলাকালে প্রাপ্ত অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বিএসএসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেছেন, কোম্পানিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গঠন করা হয়েছে একটি তদন্ত কমিটি।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ধরনের তদন্ত কার্যক্রম বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারেও হবে সহায়ক। অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং নিয়মিত নজরদারি পুঁজিবাজারকে আরও স্থিতিশীল ও কার্যকর করতে পারে।















