ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের শেয়ার কারসাজি
- ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসইসি

সংগৃহীত ছবি
ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের শেয়ার নিয়ে সংঘবদ্ধ কারসাজির প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সিরিজ ও সার্কুলার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে শেয়ারটির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘন প্রমাণিত হওয়ায় ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের শেয়ারের দাম ৩৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৮৫ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছে, যা প্রায় ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি। এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ছিল না আর্থিক সাফল্য, ব্যবসায়িক অগ্রগতি কিংবা কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ১৭(ই)(২) ও ১৭(ই)(৫) লঙ্ঘন করেছে।
প্রথম চক্রটির নেতৃত্বে ছিল ওমেগা ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড এবং মো. মাশরুর আলম। তারা বিপুল শেয়ার সংগ্রহ করে বাজারে প্রভাব বিস্তার করে। দ্বিতীয় চক্রে মাকসুদা রেজা, মাকসুদা আহমেদ এবং তাদের দুই ছেলে একাধিক ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে ৩৩টি হাওলার মাধ্যমে ১ লাখ ১১ হাজার শেয়ারের সার্কুলার ট্রেডিং করেন। তৃতীয় চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন মরিয়ম আক্তার মিতু, যার সঙ্গে মো. খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ আবুল হোসেন হাসান, আফরোজা আক্তার এবং মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম যুক্ত থেকে ২৮টি হাওলার মাধ্যমে কাউন্টারপার্টি ট্রেডিং করেছেন।
কারসাজির মাধ্যমে চক্রগুলো বিপুল মুনাফা অর্জন করলেও তদন্তে কোম্পানির কোনো উদ্যোক্তা, পরিচালক বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিএসইসির নির্দেশনায় এনফোর্সমেন্ট বিভাগ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।




