কারসাজিতে জড়িত ১২ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফাইন ফুডস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির দায়ে ১০ ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে যোগসাজশের মাধ্যমে মুনাফা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পদত্যাগের আগে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ফাইন ফুডসের শেয়ার কারসাজির অভিযোগে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কারসাজির অভিযোগে আমবিয়া এন্টারপ্রাইজকে ২ লাখ, মো. শফিকুর রহমানকে ৪ লাখ ৫০ হাজার, মোহাম্মদ শামসুল আলমকে সর্বোচ্চ ৫৭ লাখ, আরবিম টেকো লিমিটেডকে ৯ লাখ ৩৫ হাজার, বিকাশ চন্দ্র সরকারকে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ও মোহাম্মদ আলম মিন্টু শাহকে ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া সুলতানা পারভিনকে ৪ লাখ ৫৫ হাজার, আমিনা বেগমকে ২ লাখ ৭৫ হাজার, দীপিকা সাহাকে ৫ লাখ ৪০ হাজার, মো. মামুনকে ২ লাখ, মোহাম্মদ লতিফ আব্দুলকে ৪ লাখ ৮০ হাজার ও ফারহানা আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জরিমানার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এ কারসাজি হয়। ওই বছরের ২৮ অক্টোবর ফাইন ফুডসের শেয়ারের দাম ছিল ১৫০.৬০ টাকা। ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে তা বেড়ে ২১৯.৭০ টাকায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ, দাম বাড়ে ৪৫.১০ টাকা বা ৪৫.৮৮ শতাংশ।
এই সময়ের শেয়ার লেনদেন পর্যালোচনা করে তদন্তে আম্বিয়া এন্টারপ্রাইজ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বাজার কারসাজির প্রমাণ পায় বিএসইসি। পরে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিনেন্স, ১৯৬৯ এর ১৭(ই)(ভি) ও ১৭(ই)(২) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় এই শাস্তি।
দীর্ঘদিন ধরেই ফাইন ফুডসের শেয়ার নিয়ে বাজারে গুঞ্জন ছিল। কোম্পানির আর্থিক অবস্থার উন্নতি ছাড়াই কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়ানো হচ্ছিল। এর আগে ২০২৩ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে কারসাজি হয়। মোহাম্মদ শামসুল আলমকে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, আরবিম টেকো লিমিটেডকে ২৩ লাখ টাকা ও সুলতানা পারভিনকে ১১ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, বাজারে স্বচ্ছতা ফেরাতে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এমন কঠোর শাস্তির ফলে বাজারে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি বাড়বে বিনিয়োগকারীদের আস্থা।
২০০২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ফাইন ফুডস। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট ১ কোটি ৩৯ লাখ ৭৩ হাজার ৯১৮টি শেয়ারের মধ্যে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এ ছাড়া বাকি শেয়ারের মধ্যে ১৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও ৬৬ দশমিক ০৯ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।




