গোল্ডেন জুবিলি ফান্ডের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম

প্রতীকী ছবি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ‘আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড’-এর অর্থ ব্যবহারে বেরিয়ে এসেছে বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য। ফান্ডের অর্থ বিধিবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানে রাখা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপকের (অ্যাসেট ম্যানেজার) স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন করে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি ধরা পড়েছে নিরীক্ষায়।
মিউচুয়াল ফান্ডটির ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে নিরীক্ষক জানিয়েছেন এই তথ্য।
নিরীক্ষকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে ৭ কোটি টাকা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশে (আইসিবি) দীর্ঘমেয়াদি আমানত (এফডিআর) হিসেবে রাখা হয়েছে। এটি ফান্ডটির মোট সম্পদ ৭.৩৪ শতাংশ।
তবে বিএসইসির মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার ৬৭(৪) ধারা অনুযায়ী, যেকোনো মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ কেবল বাংলাদেশের তফসিলি ব্যাংকে এফডিআর করার সুযোগ রয়েছে; কোনো ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নয়।
গত বছরের ১২ নভেম্বর এসংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশের আগেই এই এফডিআর করা হলেও, আইন পরিবর্তনের পর ফান্ড কর্তৃপক্ষ তা সংশোধন বা স্থানান্তর করেনি বলে উল্লেখ করেছেন নিরীক্ষক।
এছাড়া ফান্ডটি মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার ৪৩(১৭) ধারা পরিপালন করছে না বলে জানা গেছে। বিধিমালা অনুযায়ী, ফান্ডের অ্যাসেট ম্যানেজার বা পরিচালকদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন করা নিষিদ্ধ। কিন্তু এই নিয়ম লঙ্ঘন করে গোল্ডেন জুবিলি ফান্ড কর্তৃপক্ষ তাদের অ্যাসেট ম্যানেজার ‘আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট’-এর সিস্টার কনসার্ন আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানির মাধ্যমে কেনাবেচা করেছে শেয়ার।
এই অনিয়মের বিষয়ে জানতে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের সচিব শাশ্বত কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
২০২২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া গোল্ডেন জুবিলি ফান্ডের পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাধারণ ও অন্যান্য শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতীত) মালিকানা রয়েছে ৩৯ শতাংশ। সোমবার (৬ এপ্রিল) লেনদেন শেষে ডিএসইতে ফান্ডটির প্রতিটি ইউনিটের বাজার দর দাঁড়িয়েছে ৫.৮০ টাকায়।















