শেয়ারবাজারে পতন অব্যাহত

সংগৃহীত ছবি
দেশের শেয়ারবাজারে কোনোভাবেই কাটছে না দরপতনের বৃত্ত। বিনিয়োগকারীদের টানা বিক্রির চাপে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস আজ সোমবারও বড় পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই বাজার টানা নেতিবাচক প্রবণতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সূচকের পাশাপাশি আশঙ্কাজনকভাবে কমছে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণও।
শেয়ারবাজারের এমন ধারাবাহিক পতনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের ক্রেতা সংকট থাকায় প্রতিদিন পোর্টফোলিওর মূল্য কমছে, যা খুচরা বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শেয়ারবাজারে তারল্য সংকট কাটাতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্টেকহোল্ডারদের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এই পতন প্রবণতা।
দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২০৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই–৩০ সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৬৮ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯২ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮৩ টির, দর কমেছে ২৫৫টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪টির। ডিএসইতে ৭২৬ কোটি ৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৪২ কোটি ১৫ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬২৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ২২৩টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮১টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১১টির এবং ৩১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।
ডিএসইতে শেয়ার দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। ২ হাজার ২২ বারে কোম্পানিটির ২৮ লাখ ২২৫টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজারমূল্য ৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
তালিকায় ২য় স্থানে থাকা ন্যাশনাল পলিমারের শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ১ হাজার ৭৬৮ বারে কোম্পানিটির ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৫৫০টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজারমূল্য ৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
তালিকার ৩য় স্থানে থাকা ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টের শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ৩ হাজার ২৪২ বারে কোম্পানিটির ৬৩ হাজার ২৮৩টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজারমূল্য ১১ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে– সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডের ৪.৯২ শতাংশ, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের ৪.৩৬, সোনারগাঁও টেক্সটাইলের ৩.৪৯, নাভানা ফার্মার ৩.১৫, ফু-ওয়াং সিরামিকসের ৩.১৩, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের ২.৮১ শতাংশ ও ড্যফোডিল কম্পিউটার্সের ২.৬৩ শতাংশ শেয়ার দর বেড়েছে।
এদিকে, লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। কোম্পানিটির ২৯ কোটি ৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডমিনেজ স্টিলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকার।
১৬ কোটি ৭২ লাখ ৯৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি।
লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- টেকনো ড্রাগস, আরডি ফুড, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, কাসেম ইন্ডাস্ট্রিজ, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, এনসিসি ব্যাংক ও সাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেড।




