সতর্ক বিএসইসি-ডিএসই
উত্থানের বাজারে সক্রিয় কারসাজি চক্র

দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন পর ইতিবাচক গতি ফিরেছে। তবে বাজারের এই উত্থানকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক অসাধু কারসাজি চক্র। দুর্বল ও অস্তিত্বসংকটে থাকা বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ছে। এর পেছনে কারসাজির আশঙ্কা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং সন্দেহজনক লেনদেন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা দুটি।
গত ৪ জুন মাসুদ খানের নেতৃত্বে বিএসইসি পুনর্গঠনের পর ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক প্রায় ৪২৫ পয়েন্ট বা ৮ শতাংশ বেড়েছে। বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির পাশাপাশি ব্যবসায়িক লোকসানে থাকা কোম্পানির শেয়ারদরও অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধির পেছনে কোনো মৌলিক বা ব্যবসায়িক ভিত্তি নেই; বরং একটি অসাধু চক্র কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল হিসেবে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি থাকা শেয়ারের লেনদেন দিনের মাঝপথে সাময়িকভাবে স্থগিত করছে ডিএসই। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত লেনদেন চলার পর বাকি সময়ের জন্য ওই শেয়ারের লেনদেন বন্ধ রাখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন আগামীর সময়কে বললেন, ‘সম্প্রতি কিছু লোকসানি ও দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একটি অসাধু গোষ্ঠী কৃত্রিমভাবে এসব শেয়ারের দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। এতে তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতেই সাময়িকভাবে এসব শেয়ারের লেনদেন স্থগিত করা হচ্ছে।’
এ পদক্ষেপের আওতায় এরই মধ্যে বিভিন্ন দিনে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স, উসমানিয়া গ্লাস শিট, শ্যামপুর সুগার মিলস, জিল বাংলা সুগার, সোনারগাঁও টেক্সটাইল এবং মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন সাময়িক স্থগিত করা হয়।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত তিন মাসে শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ারদর ১৬৮ টাকা বা ১১১ শতাংশ বেড়ে ৩২০ টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার ৫৩ টাকা বা ১৬৭ শতাংশ বেড়ে ৮৪ টাকায়, সোনারগাঁও টেক্সটাইলের ৫৪ টাকা বা ১৪১ শতাংশ বেড়ে ৯২ টাকায়, উসমানিয়া গ্লাস শিটের ৪০ টাকা বা ১১৭ শতাংশ বেড়ে ৭৪ টাকায়, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের ৬৭ টাকা বা ৭০ শতাংশ বেড়ে ১৬৪ টাকায় এবং জিল বাংলা সুগারের শেয়ার ৭৯ টাকা বা ৫৯ শতাংশ বেড়ে ২১৫ টাকায় উঠেছে।
অথচ ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স ছাড়া বাকি প্রায় সব কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল এবং নিরীক্ষকরা তাদের অস্তিত্ব নিয়েও আর্থিক প্রতিবেদনে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। শুধু লেনদেন স্থগিতই নয়, অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে নিয়মিত নোটিসও প্রকাশ করছে ডিএসই। গত জুন থেকে ফারইস্ট নিটিং, ফনিক্স ফাইন্যান্স, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। জবাবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, শেয়ারের দাম বাড়ার পেছনে তাদের কাছে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) নেই।
বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় একাধিক কোম্পানির শেয়ারদর ও লেনদেন নিয়ে তদন্তও শুরু করেছে বিএসইসি। তদন্তাধীন কোম্পানির তালিকায় রিজেন্ট টেক্সটাইল, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সাইফ পাওয়ারটেকসহ রয়েছে আরও কয়েকটি কোম্পানি।
জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘সম্প্রতি কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং লেনদেনে অসংগতি কমিশনের নজরে এসেছে। বিষয়টি স্বাভাবিক মনে না হওয়ায় প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।’





