ডিএসইর প্রস্তাবে বিএসইসির সম্মতি
ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম থেকে বাদ অর্গানোগ্রাম

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম থেকে প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ডিএসইর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক দিক বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এর ফলে ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ডিএসইর দীর্ঘদিনের চাওয়া পূরণের পথে এগোলো কমিশনের এ সিদ্ধান্ত। সম্প্রতি বিএসইসি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্বস্ত সূত্র।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি বিএসইসির আইন বিভাগে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এর ফলে ডিএসইর অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্কিম সংশোধনের মতো জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রয়োজন হবে না। সময়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রয়োজন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, নিয়ন্ত্রক সংস্কার ও আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্গানোগ্রামে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে।
এ বিষয়ে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আমরা ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম থেকে প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। সার্বিক দিক বিবেচনা করে স্কিম থেকে অর্গানোগ্রাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিএসইসি। ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম নিয়ে বিএসইসির সঙ্গে ডিএসইর বৈঠক হয়েছে। স্কিমটি পাঁচ বছর পর পর্যালোচনার বিধান ছিল। কিন্তু কোনো কারণে তা করা হয়নি। অন্যান্য দেশের ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা পর্যালোচনা করে তা বাস্তবায়ন করা হবে।’
ডিএসইর প্রস্তাব অনুযায়ী, অর্গানোগ্রাম মূলত প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার কাঠামো। ব্যবসার ধরন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক উত্তমচর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ কাঠামো পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু অর্গানোগ্রাম স্কিমের অংশ হিসেবে থাকলে পরিবর্তনে অতিরিক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করে ডিএসই।
গত ১৫ মার্চ ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম প্রথমে কমিশনকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। পরে সেই আবেদনের ধারাবাহিকতায় ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছেন।
ডিএসইর যুক্তি, ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমের মূল উদ্দেশ্য হলো স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও লেনদেনের অধিকার পৃথক করা। এর মাধ্যমে মালিকানা ও পরিচালনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু বিস্তারিত প্রশাসনিক কাঠামো এ স্কিমের মৌলিক বিষয় নয়। তাই অর্গানোগ্রাম পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত অভ্যন্তরীণ নীতিমালার আওতায় রাখাই বেশি যৌক্তিক।
একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে ডিএসই মনে করে, কোম্পানি আইন ও করপোরেট সুশাসন নীতিমালা অনুযায়ী অর্গানোগ্রাম অনুমোদন, সংশোধন এবং হালনাগাদ করার দায়িত্ব পরিচালনা পর্ষদের থাকা উচিত। স্কিম থেকে এটি বাদ দেওয়া হলে প্রয়োজন অনুযায়ী সাংগঠনিক পরিবর্তন আনা সহজ হবে। তবে এক্ষেত্রে বিএসইসির নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত মেনে চলতে হবে।
ডিএসইর আবেদনে ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমের ৯.২.৩ ধারার কথা উল্লেখ করা হয়। ওই ধারায় এক্সচেঞ্জের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে সর্বোত্তম সাংগঠনিক কাঠামো নিশ্চিত করার বিষয়টি রয়েছে। ডিএসইর মতে, এ লক্ষ্য অর্জনে অর্গানোগ্রামকে স্থির কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবর্তনের সুযোগ থাকা দরকার। এ ছাড়া দেশের অন্য স্টক এক্সচেঞ্জ সিএসইর স্কিমে অর্গানোগ্রাম অন্তর্ভুক্ত না থাকার বিষয়টিও জোরালো যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে ডিএসই।
পরিশেষে ডিএসই মনে করে, বর্তমানব্যবস্থায় দ্রুত সাংগঠনিক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়। অর্গানোগ্রাম স্কিম থেকে বাদ দেওয়া হলে এক্সচেঞ্জের পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্স বা প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।



