এনবিআরের প্রজ্ঞাপন
ব্যাংক বীমা সেবায় অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক

নির্দিষ্ট আটটি পণ্য উৎপাদন এবং তিন ধরনের সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ফলে এসব খাতের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে ই-ভ্যাট পোর্টালের মাধ্যমে রিটার্ন জমা দিতে হবে। রবিবার এনবিআরের সদস্য (মূসক নীতি) মো. আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সাধারণ আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর আওতায় জারি করা আদেশটি কার্যকর হবে অবিলম্বে।
আদেশ অনুযায়ী, সিগারেট, মোবাইল ফোন, এমএস পণ্য বা রড, ওষুধ, পানীয়, সিমেন্ট, টাইলস এবং রঙ ও বার্নিশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি বীমা, ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং সেবা এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও এই বাধ্যবাধকতার আওতায় এসেছে। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকেও অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের আওতায় আনা হবে। এ প্রক্রিয়ায় করদাতাদের দেওয়া তথ্য দ্রুত যাচাই ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়, ক্রয় ও ভ্যাট পরিশোধের তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি শনাক্ত করাও অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
নতুন এ নির্দেশনার ফলে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল-সংক্রান্ত আগের সব আদেশ বাতিল করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এই তালিকায় নতুন কোনো খাত যুক্ত বা বিদ্যমান কোনো খাত বাদ দেওয়ার ক্ষমতা সংরক্ষিত থাকবে এনবিআরের হাতে।
এনবিআরের তথ্যমতে, সারা দেশে বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মের আওতায় আনতে এবং ধাপে ধাপে নিয়মিত রিটার্ন দাখিলে অভ্যস্ত করতে এই অনলাইন ব্যবস্থা।



