সরকারি চাকরিজীবীদের সুদমুক্ত গাড়ি ঋণ বন্ধ

সংগৃহীত ছবি
অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারি চাকরিজীবীদের গাড়ি কিনতে সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম ঋণ বন্ধ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে চাকরিজীবীদের গাড়ি কেনার দীর্ঘদিনের সুবিধা স্থগিত হলো। পাশাপাশি সরকারের টাকায় বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ ও সেমিনারে অংশ নিতে পারবেন না সরকারি কর্মকর্তারা। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চলতি (২০২৬-২৭) অর্থবছরের কিছু ব্যয় স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুদমুক্ত গাড়ি ঋণ সুবিধা দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ নীতিমালার আওতায় চালু ছিল। মূলত উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার সরকারি কর্মকর্তারা এই সুবিধার আওতায় ছিলেন। পরে নীতিমালার আওতায় সমপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাও অন্তর্ভুক্ত হন। একজন কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ পেতেন ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি কেনার উদ্দেশ্যে। কর্মকর্তাকে ঋণের ওপর কোনো সুদ দিতে হতো না। এ ছাড়া গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা হিসেবে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতেন। এই ভাতা দিয়ে জ্বালানি, চালক, মেরামত ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মেটানোর সুযোগ ছিল। ২০১৭ সালে এই সুবিধা চালুর সময় সরকারের যুক্তি ছিল— কর্মকর্তাদের সরকারি দায়িত্ব পালনে ব্যক্তিগত যানবাহনের সুবিধা নিশ্চিত করা।
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের থোক বরাদ্দের ব্যয় বন্ধ এবং মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থও ব্যয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা অারোপ করা হয়। তবে ১০ বছরের বেশি পুরনো টিওঅ্যান্ডইভুক্ত যানবাহন প্রতিস্থাপন এবং নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে গাড়ি কেনা যাবে। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া নতুন যেকোনো জিপ বা গাড়ি কিনতে হলে তা অবশ্যই সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক (ফুল ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল) গাড়ি কেনার কথা বলা হয়।
এ ছাড়া নতুন আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন নির্মাণেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, প্রকল্পের নির্মাণকাজ ৭০ শতাংশ বা তার বেশি সম্পন্ন হলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে তা শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণে কোনো ব্যয় করা যাবে না।
সেখানে আরও বলা হয়, বিদেশি সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে আয়োজিত প্রশিক্ষণ, স্কলারশিপ বা ফেলোশিপের আওতায় মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে।
এ ছাড়া প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন (পিএসআই) ও ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্টের (এফএটি) ক্ষেত্রে শুধু জটিল প্রকৃতির পণ্য এবং যেখানে পিএসআই বাধ্যতামূলক, সেখানে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরিভাবে সনদপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিদেশ সফর করতে পারবেন। তবে এ ধরনের পরীক্ষায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত (সার্টিফায়েড) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সীমিত সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
এসব স্থগিত করার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের বিভিন্ন খাতে ব্যয় স্থগিত ও সীমিত করা হয়েছে। এ নিের্দশ স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।




