অপেক্ষায় ফারইস্টের ভুক্তভোগী গ্রাহকরা

সংগৃহীত ছবি
বীমার নামে আত্মসাৎ হওয়া নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা ও পাওনা ফিরে পাওয়ার আশায় আগামীকাল (১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের দিকে তাকিয়ে আছেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির লাখ লাখ গ্রাহক।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কোম্পানির বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হেমায়েত উল্যাহসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ডিবির দাখিল করা অভিযোগপত্রটি ইতিমধ্যে সিএমএম কোর্ট গ্রহণ করেছেন। তবে সেই আদেশ বাতিল এবং মামলাটির পুনর্তদন্ত চেয়ে প্রধান আসামি নজরুলের করা রিভিশন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আগামীকাল।
এই শুনানিকে ঘিরে চরম আর্থিক সংকটে থাকা গ্রাহকদের মধ্যে যেমন নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তেমনি মামলা দীর্ঘায়িত করার কৌশল নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে নজরুল ইসলাম ও হেমায়েত উল্যাহ উভয়েই কারাগারে রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম চলমান।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নির্দেশে পরিচালিত এক বিশেষ নিরীক্ষায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ থেকে ২ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকারও বেশি লোপাটের ভয়ংকর চিত্র উঠে আসে। ভুয়া ভাউচার তৈরি এবং বাজারদরের চেয়ে বহুগুণ বেশি দামে কাকরাইল, তোপখানা রোড ও মিরপুরে জমি ও ভবন কেনার নামে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তৎকালীন পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
ব্যাপক এই লুটপাটের কারণে বর্তমানে গ্রাহকদের পাওনা মেটাতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে কোম্পানিটি। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফে বর্তমানে গ্রাহকদের বকেয়া ও মেয়াদোত্তীর্ণ বীমা দাবির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জমানো অর্থ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। এক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দিনমজুরি করে নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় ফারইস্টে টাকা জমিয়েছিলাম। আমাদের ঘামঝরা কষ্টের টাকা নজরুল-হেমায়েতরা লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা বিচার চাই, আর আমাদের জমানো টাকা দ্রুত ফেরত চাই।’
ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, আদালতে সাধারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বার্থ গুরুত্ব পাবে এবং আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, আত্মসাৎকৃত অর্থ ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে দ্রুত গ্রাহকদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।
আগামীকালের এই শুনানীকে সাধারণ গ্রাহকরা শুধু মামলার একটি নিয়মিত ধাপ হিসেবে নয়, বরং নিজেদের দীর্ঘদিনের পাওনা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবেই দেখছেন।



