স্নাতক বেকার নামবে ১০ শতাংশের নিচে
- ২০৩০ সালের লক্ষ্য
- শিক্ষাকে করা হবে কর্মের উপযোগী
- মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাধ্যতামূলক

প্রতীকী ছবি
দেশে বর্তমানে মোট বেকারের সাড়ে ১৩ শতাংশই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী স্নাতক। সংখ্যার দিক থেকে যা প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার। কিন্তু এ সংখ্যা কমিয়ে আগামী পাঁচ বছরে ১০ শতাংশের নিচে নামাতে চায় সরকার। এজন্য বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার করে কর্মের উপযোগী করা হবে। এ ছাড়া মাধ্যমিক স্কুলগুলোয় চালু হবে বাধ্যতামূলক বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। শুধু চাকরি দেওয়াই নয়, নিজ কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা তৈরির নানা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। সরকারের ‘ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক’-এ এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছর থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত এটি বাস্তবায়ন করা হবে। ফ্রেমওয়ার্কটি তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।
জিইডির সদস্য (সচিব) ড. মঞ্জুর হোসেন আগামীর সময়কে বলেছেন, শিক্ষার ফলাফল এবং শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অসামঞ্জস্যের ফলে উচ্চবেকারত্ব এবং আংশিক কর্মসংস্থান হচ্ছে। বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো খাত এবং নিয়োগকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনবল সরবরাহ করতে পারছে না। শিক্ষাজীবন থেকে কর্মজীবনে প্রবেশকে মসৃণ করার জন্য এই ব্যবস্থাকে একটি চাহিদাচালিত ও দক্ষতাভিত্তিক বাস্তুতন্ত্রে রূপান্তরিত করা অত্যন্ত জরুরি। সেজন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জিইডির সদস্য জানিয়েছেন, যুবকদের চাকরির বাজারের জন্য শিল্প-সংযুক্ত দক্ষতায় সজ্জিত করা, সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির স্নাতকদের জন্য কর্মসংস্থান বা নিজ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের সংশ্লিষ্ট শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করা। ২০৩০ সালের মধ্যে স্নাতক বেকারত্ব ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্কে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলো হলো— শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনা। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে এক বছরের মধ্যে ৬০ শতাংশ চাকরিপ্রাপ্তির একটি নির্দিষ্ট মূল কর্মক্ষমতাসূচক (কেপিআই)সহ একটি ক্যারিয়ার ও প্লেসমেন্ট অফিস প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের জন্য যুবকদের প্রস্তুত করতে সাইবার নিরাপত্তা, মেশিন লার্নিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান ও উচ্চচাহিদাসম্পন্ন ক্ষেত্রগুলোতে বিশেষায়িত কোর্স চালু করা। বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা।
আরও যেসব উদ্যোগ রয়েছে— যুব উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার জন্য সুস্পষ্ট নির্বাচন মানদণ্ড এবং পরিচালন কাঠামোসহ সরকার, বেসরকারি খাত এবং করপোরেট সংস্থাগুলোকে সম্পৃক্ত করে একটি বহু-অংশীজনভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। হাঁস-মুরগি পালন, গবাদি পশু পালন, হস্তশিল্প এবং ডিজিটাল পরিষেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আয়বর্ধক দক্ষতা প্রদানের পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করা। এ ছাড়া লিঙ্গভিত্তিক প্রতিবন্ধকতা নিরসনের মাধ্যমে ১ হাজার ২০০ নারী উদ্যোক্তাকে বিশেষায়িত অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগ দেওয়া হবে। নীতিমালা ও অনুদান সহায়তার সমন্বয়ে যুবকদের জন্য কৃষি উদ্যোগ চালু করা এবং একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিজ কর্মসংস্থানকে উৎসাহিত করে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। আরও আছে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ৪৮ হাজার শহুরে যুবকের জন্য বিশেষায়িত মোবাইল ডিভাইস সার্ভিসিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে অর্থায়ন প্রদানের মাধ্যমে তিন হাজার গ্রামীণ বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে সহায়তা করা। ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর এক বছর মেয়াদি চক্রে ৬৫০ জন যুবকের জন্য ২৪টি বিশেষায়িত কোর্স (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ভাষাসহ) ডিজাইন ও বাস্তবায়ন করা। যুবকদের দুর্বলতা এবং সামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে মাদকাসক্ত থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিদের জন্য মানসিক আঘাতসচেতন পুনর্বাসন কর্মসূচি প্রণয়ণ এবং তাদের দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।






