কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন
বিদেশি বিনিয়োগ নিম্নমুখী
- চলতি বছরের জুন প্রান্তিকে ইক্যুইটি আসে ৭.৭৪ কোটি ডলার
- গত বছরের একই সময়ে ছিল ৮.১৩ কোটি ডলার

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আরও কমছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের মতো দ্বিতীয় প্রান্তিকেও দেশে একেবারে নতুন বিদেশি মূলধন বা নেট ইক্যুইটি বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন সময়ে দেশে নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ এসেছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে ইক্যুইটি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ১৩ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নতুন বিদেশি মূলধন প্রবাহ কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। পুনর্বিনিয়োগ করা লভ্যাংশের অর্থ হচ্ছে, আগে থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের লাভের একটি অংশ দেশে রেখে আবার বিনিয়োগ করছে। এতে সামগ্রিক বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়লেও নতুন বিদেশি উদ্যোক্তা আসার চিত্র প্রতিফলিত হয় না।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যমান বিদেশি কোম্পানিগুলো এখনো তাদের অর্জিত মুনাফার একটি অংশ দেশে পুনর্বিনিয়োগ করছে। কিন্তু নতুন বিদেশি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে নতুন প্রকল্প শুরু করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এটিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। ইক্যুইটি বিনিয়োগ হলো মূলত দেশে প্রবেশ করা একদম নতুন বিদেশি পুঁজি। এই খাতে এমন পতন ইঙ্গিত দেয় যে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে নতুন কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে ক্রমেই অনীহা প্রকাশ করছেন।
তথ্য মতে, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের নিটপ্রবাহে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের ২ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার ডলার থেকে তা ৬৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ কমে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ৮৬ লাখ ১০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগের একই প্রান্তিকের ৫ কোটি ৮০ লাখ ৮০ হাজার ডলারের তুলনায় এ পরিমাণ ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ কম। এই প্রান্তিকে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ বাবদ মোট অর্থপ্রবাহ ছিল ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। তবে এ খাতে অর্থের বহিঃপ্রবাহও ছিল উল্লেখযোগ্য ৩২ কোটি ৫১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ফলে এই উপাদান থেকে নিট বিদেশি বিনিয়োগে অবদান সীমিত হয়ে পড়ে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থাগুলোর দ্বারা বাংলাদেশের ঋণমান (সোভরেন ক্রেডিট রেটিং) বারবার কমিয়ে দেওয়া বিদেশি বিনিয়োগ না আসার অন্যতম একটি কারণ। বিনিয়োগ করার আগে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই রেটিংকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। তারপর দেশের ব্যাংক খাতে উচ্চ খেলাপি ঋণের হারও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেয়। এসব কারণে নতুন বিনিয়োগে তাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং ইক্যুইটি বিনিয়োগের প্রবাহও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
তথ্য মতে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে পুনর্বিনিয়োগ করা লভ্যাংশ বেড়ে ২৬ কোটি ৯১ লাখ ডলারে হয়েছে, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার। অর্থাৎ মোট এফডিআইর বড় অংশই এসেছে পুরনো বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে, নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নয়। আলোচ্য প্রান্তিকে পুনর্বিনিয়োগ করা মুনাফা বাবদ মোট অর্থপ্রবাহ ছিল ৬৬ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বিপরীতে এ খাতে অর্থের বহিঃপ্রবাহ ছিল ৪০ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ফলে এ খাতে নিট অর্থপ্রবাহ দাঁড়ায় ২৬ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ডলারে।



