১৮০ দিনে ২০ উদ্যোগ: দৃশ্যমান অগ্রগতির পথে ইনভেস্ট বাংলাদেশ

সংগৃহীত ছবি
ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ বিনিয়োগ পরিকল্পনার মেয়াদ শেষে অর্জিত অগ্রগতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শক্তিশালী অবকাঠামো, বিনিয়োগ সহায়তা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন—এই তিনটি মূল স্তম্ভের আওতায় মার্চে ঘোষিত ১৬টি কর্মধারার মধ্যে ১৪টির অধীনে বাস্তবায়িত ২০টি উদ্যোগের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
অগ্রগতির বিবরণ প্রকাশকালে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, সরকারের বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে উন্নত অবকাঠামো, দ্রুত ও কার্যকর সেবা এবং বিনিয়োগের একটি শক্তিশালী পাইপলাইন তৈরিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে, তবে বড় প্রকল্পগুলোর চূড়ান্ত বাস্তবায়নে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে।
প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, প্রথম স্তম্ভ অর্থাৎ অবকাঠামো খাতে বন্দর আধুনিকায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং বিকল্প জ্বালানি সরবরাহে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমস ও ব্যাংকিং সুবিধাসহ ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে এবং ঢাকা বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ চালুর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এ ছাড়া লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে এপিএম টার্মিনালস ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে, এবং নিউ মুরিং টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটরের সাথে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি চীনা ও মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, সোনাগাজীতে প্রথম পিপিপি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থার শিল্পজমি ব্যবহারে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
দ্বিতীয় স্তম্ভের অধীনে বিনিয়োগ সেবা একীভূতকরণ ও বৈদেশিক বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিডা, বেজা ও পিপিপি কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ তাদের সমন্বিত কার্যক্রম শুরু করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (CEPA) স্বাক্ষরিত হওয়ায় বাংলাদেশের ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য সেখানে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। ব্যবসায়ীদের সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে নিয়মিত সরাসরি আলোচনার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে প্রথম দফায় উত্থাপিত অধিকাংশ বিষয়েরই সমাধান করা হয়েছে। ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘বাংলাবিজ’ প্ল্যাটফর্মে বিশেষ প্যাকেজ চালু করার পাশাপাশি চীনের গুয়াংজুতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের নতুন কার্যালয় চালুর কাজ এগোচ্ছে।
তৃতীয় স্তম্ভে পরিকল্পিত বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি ও সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে। দেশে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আনলে সংশ্লিষ্ট ইকুইটির ১.২৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। বর্তমানে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইন রয়েছে, যার একটি বড় অংশ বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারি পর্যটন স্থাপনায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ‘হোটেল শৈবাল’ কেন্দ্রিক পাইলট প্রকল্প, গভীর সমুদ্রে মৎস্য শিকার ও অ্যাকুয়াকালচারের মাধ্যমে ব্লু-ইকোনমি জোরদার এবং দেশব্যাপী প্রথম সমন্বিত শিল্প মানচিত্রায়নের কাজ চলছে।



