দ্বিতীয় যমুনা ও পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চুক্তি

দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
‘Consultancy Services for Feasibility Study for Construction of 2nd Jamuna & 2nd Padma Bridge over the River Jamuna & Padma’ শীর্ষক এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মেগা অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চুক্তি স্বাক্ষর দেশের সেতু অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
মোহাম্মদ আবদুর রউফ আরও উল্লেখ করেছেন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে উপযুক্ত স্থান ও অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণ করে সেতু নির্মাণ করা হলে দেশের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি পণ্য ও যাত্রী পরিবহনেও গতি বাড়বে।
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান SARM Associates Limited-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অথরাইজড সিগনেটরি প্রকৌশলী মিয়া মোহাম্মদ কাইয়ুম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় যৌথভাবে কাজ করবে Environment and Resource Management Consultant (P.) Ltd. (ERMC), Nepal; Swedish National Road Consulting AB (SWEROAD), Sweden; Dasan Consultants Co. Ltd. (Dasan), Republic of Korea; Desh Upodesh Limited (DUL), Bangladesh এবং SARM Associates Limited (SARM), Bangladesh। সাব-কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করবে TILLER, Bangladesh।
সমীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো দেশের দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ চাহিদা বিবেচনায় টেকসই, নিরাপদ ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক সেতু নির্মাণের জন্য উপযুক্ত অ্যালাইনমেন্ট, কারিগরি ও কাঠামোগত বিকল্প এবং স্থান চিহ্নিত করা। পাশাপাশি সর্বোত্তম বিকল্পের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে।
সমীক্ষার আওতায় প্রকল্পের কারিগরি, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত, সামাজিক ও আর্থিক বিষয় পর্যালোচনা করে সেতু নির্মাণের উপযোগিতা যাচাই করা হবে।
চুক্তি অনুযায়ী সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মেয়াদ ১২ মাস। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৮ থেকে ৯ মাসের মধ্যে সমীক্ষা সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





