আধুনিক প্যাকেজিংয়ে দেশীয় শিল্পের সম্ভাবনা

সংগৃহীত ছবি
দেশের হোম ও ব্যক্তিগত পরিচর্যাসামগ্রী শিল্পের বিকাশে বিশ্বমানের প্যাকেজিং, কাঁচামাল আমদানিতে করের চাপ কমানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, মানসম্মত প্যাকেজিং ও কার্যকর নীতিসহায়তা দেশীয় উৎপাদকদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে।
শনিবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ হোম অ্যান্ড পার্সোনাল কেয়ার ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সে’ এসব বিষয় উঠে আসে। সম্মেলনে প্যাকেজিং, কাঁচামাল সরবরাহ, উৎপাদন, বিপণন ও বাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
রিমার্ক সুপার প্যাকের প্রধান জয়ন্ত সরকার বলেছেন, কসমেটিকস, ত্বকের যত্ন এবং গৃহস্থালি ও ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্যে আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। আধুনিক প্রযুক্তি ও নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশেই উন্নত প্যাকেজিং তৈরি করা সম্ভব, যা আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, প্যাকেজিং শিল্পের টেকসই বিকাশে কাঁচামাল আমদানিতে করের চাপ পর্যালোচনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদক ও সরবরাহকারীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।
রিমার্কের পরিচালক সুকান্ত দাস পণ্যের গুণগত মান, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, নকল ও মানহীন পণ্য প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের জন্য এ শিল্পের উন্নয়নে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।
রিমেক্স করপোরেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার ত্বাহা উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণনে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। এতে ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোক্তাদের চাহিদা সম্পর্কে দ্রুত ধারণা পাওয়া সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, অনলাইন বাজারে নকল ও মানহীন পণ্যের বিস্তার ভোক্তাদের আস্থা কমানোর পাশাপাশি মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় বাজার তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
আয়োজকদের মতে, উৎপাদক, কাঁচামাল সরবরাহকারী, প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের হোম ও ব্যক্তিগত পরিচর্যাসামগ্রী শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নেওয়া সম্ভব হবে।



