দেশে সাশ্রয়ী হৃদরোগ পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়তে উদ্যোগ, অ্যাক্রস-বিডির সভা

সংগৃহীত ছবি
দেশে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হৃদরোগ পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্টেকহোল্ডার সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস (বিইউএইচএস)। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে ‘অ্যাফোর্ডেবল কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন: অ্যান আউটরিচ ইন্টারডিসিপ্লিনারি স্ট্র্যাটেজিক স্টাডি-বাংলাদেশ’ (অ্যাক্রস-বিডি) প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষক, চিকিৎসক, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। দেশে হৃদ্রোগ পুনর্বাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে গবেষণালব্ধ প্রমাণ, উদ্ভাবন ও অগ্রাধিকারভিত্তিক করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, দেশে অসংক্রামক রোগে মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ ঘটে। এসব রোগের মধ্যে হৃদরোগ অন্যতম প্রধান কারণ। সরকার আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, সাশ্রয়ী ও স্থানীয় বাস্তবতার উপযোগী হৃদরোগ পুনর্বাসন মডেল বাস্তবায়নে নীতিগত ও কাঠামোগত সহায়তা দেবে।
তিনি আরও বলেছেন, গবেষণার ফলাফল শুধু গবেষণাগার বা সাময়িকীতে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। গবেষণার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
বিইউএইচএসের উপাচার্য অধ্যাপক জে এম এ হান্নানের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য গবেষণাবিষয়ক অধ্যাপক ও অ্যাক্রস প্রকল্পের সহপ্রধান গবেষক রড এস টেইলর এবং পাকিস্তানের জিয়াউদ্দিন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের অধ্যাপক ও প্রকল্পের সহপ্রধান গবেষক ইমরান বি. চৌধুরী।
তাদের উপস্থাপনায় হৃদরোগ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী, সাংস্কৃতিকভাবে উপযোগী ও বাড়িভিত্তিক পুনর্বাসন মডেল তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ মডেলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাও অন্তর্ভুক্ত করার কথা তুলে ধরা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তারা হৃদ্রোগের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতা এবং কার্যকর পুনর্বাসন ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অ্যাক্রস-বিডি প্রকল্পটি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চের (এনআইএইচআর) অর্থায়নে পরিচালিত পাঁচ বছর মেয়াদি আন্তর্জাতিক গবেষণা কর্মসূচি। যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় ও ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশে এটি বাস্তবায়ন করছে বিইউএইচএস। এ ছাড়া ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সেন্টার হিসেবে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এবং ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব লিভিং অ্যান্ড লার্নিংসহ (পিআইএলএল) আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য অগ্রাধিকারের সঙ্গে প্রকল্পের লক্ষ্য ও কার্যক্রমের সমন্বয় তৈরির ক্ষেত্রে এ সভা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।



