বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন বাজারে কাজে লাগানোর উদ্যোগ ইউজিসির

সংগৃহীত ছবি
বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও জ্ঞান শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজে লাগানো এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এর মধ্যে রয়েছে যৌথ গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর কার্যালয় (টিটিও) প্রতিষ্ঠা এবং স্টার্টআপ ইনকিউবেটর গড়ে তোলার পরিকল্পনা।
আজ রবিবার চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-তে তিন দিনব্যাপী ‘পঞ্চম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইনোভেশনস ইন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব তথ্যের কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গবেষণার সাফল্য শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশ বা উদ্ধৃতির সংখ্যা দিয়ে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, কার্যকর প্রোটোটাইপ তৈরি এবং মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের মাধ্যমেও এর মূল্যায়ন করতে হবে। গবেষণার পরিধি কেবল প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান ও শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন তিনি।
ইউজিসি চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো প্রযুক্তি, সফটওয়্যার ও পরামর্শসেবার জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল। অথচ চট্টগ্রাম বন্দরের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা, তৈরি পোশাক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা বিদ্যুৎ সঞ্চালন দক্ষতার মতো ক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষক-গবেষকদের দেশীয় সমাধান দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। এজন্য তিনি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
তিনি জানান, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ ব্যবহারিক গবেষণায় অর্থায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণাগার ও বৈশ্বিক গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর কার্যালয় (টিটিও) প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, এসব কার্যালয়ের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তির মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, পেটেন্ট গ্রহণ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টার্টআপ ইনকিউবেটর প্রতিষ্ঠায় কৌশলগত অনুদান দেওয়া হবে, যা শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণাকে ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপান্তর ও কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করবে।
দেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা এবং আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে মৌলিক ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এর জন্য তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও জীবপ্রযুক্তির মতো খাতে গবেষক, শিল্পমালিক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার আহ্বান জানান।
আইআইইউসির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য তুলে ধরেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাসমত আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুদান ঝা, মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সেইন্স ইসলাম মালয়েশিয়ার ড. আজনি হাসিলিজান বিনতে আবি হালিম, আইইইই বাংলাদেশ সেকশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম. ইমামুল হাসান ভূঁইয়াসহ দেশি-বিদেশি গবেষক ও শিক্ষকবৃন্দ। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন।



