ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে তরুণ নেতৃত্ব ও নাগরিক সম্পৃক্ততা সম্মেলন

সংগৃহীত ছবি
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক তরুণ নেতৃত্ব ও নাগরিক সম্পৃক্ততা বিষয়ক সম্মেলন ‘গেট এনগেজড ২০২৬’-এর ১৩তম আসর। সাতদিনব্যাপী এ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১২টি দেশের ৪৩ জন সমন্বয়কারী অংশ নেন। তরুণ নেতৃত্ব বিকাশ, নাগরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং কমিউনিটির প্রয়োজনভিত্তিক উদ্যোগ ছিল আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য।
এবারই প্রথম বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হলো এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন। গত বছর লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে অবস্থিত ইউরোপিয়ান হিউম্যানিটিজ ইউনিভার্সিটিতে এর আয়োজন করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব জেনারেল এডুকেশন এবং বার্ড কলেজের সেন্টার ফর সিভিক এনগেজমেন্ট যৌথভাবে ‘জিএইচইএ২১ গেট এনগেজড কনফারেন্স ২০২৬: স্টুডেন্ট অ্যাকশন অ্যান্ড ইয়ুথ লিডারশিপ’ আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন দেশের তরুণ নেতা, সিভিক এনগেজমেন্ট কর্মী, শিক্ষক ও পেশাজীবীরা অংশ নেন। তারা নিজ নিজ কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগ উপস্থাপন করেন এবং সেগুলো নিয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি নেতৃত্ব, যোগাযোগ, নেটওয়ার্কিং এবং টেকসই নাগরিক সম্পৃক্ততা দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন তামারা হাসান আবেদ। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এমন বৈশ্বিক নাগরিক প্রয়োজন, যারা সমাজের মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে সক্ষম।
তার ভাষ্য, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সমাজের জন্য কাজ করার ধারণা পাঠক্রমের বাইরের কোনো বিষয় নয়; এটি শিক্ষাব্যবস্থারই অংশ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নেতৃত্ব কোনো পদবি নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কথা শোনার একটি চর্চা।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার উল্লেখ করেন, অর্থবহ উদ্ভাবনের জন্য প্রযুক্তি ও তথ্যের পাশাপাশি সমাজ, লিবারেল আর্টস এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় প্রয়োজন।
বার্ড কলেজের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও একাডেমিক অ্যাফেয়ার্সবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোনাথন অ্যাডাম বেকার উচ্চশিক্ষায় সিভিক এনগেজমেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বার্ড কলেজের সেন্টার ফর সিভিক এনগেজমেন্টের পরিচালক এবং জিএইচইএ২১-এর ভাইস চ্যান্সেলর।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি যে নেতৃত্ব দিচ্ছে, সেই মডেল দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রেও অনুসরণ করা যেতে পারে।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের ডিন এবং জিএইচইএ২১-এর ফ্যাকাল্টি সদস্য অধ্যাপক সামিয়া হক শিক্ষা ও সামাজিক পরিবর্তনকে বৈশ্বিক পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অমৃতা মাকিন ইসলাম।
সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করেন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড, মিলেনিয়াম ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক কাউন্সিলের কো-চেয়ার ড. সু এল ম্যাক্সাম এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সিভিক এনগেজমেন্টবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর নাবিল বি আরিফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এবং জিএইচইএ২১-এর ফ্যাকাল্টি সদস্য ফাহমিদা রহমান।
কেলনার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এবং বার্ড কলেজ সেন্টার ফর সিভিক এনগেজমেন্টের সহযোগিতায় সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের প্রাইম সাসটেইনেবল পার্টনার ছিল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড, ফিনট্রা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, যমুনা ব্যাংক, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এবং স্কয়ার গ্রুপ।
স্ট্র্যাটেজিক সাসটেইনেবল পার্টনার ছিল বেঙ্গল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কটন গ্রুপ বাংলাদেশ, গার্ডিয়ান লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেড, ইস্পাহানি গ্রুপ এবং স্টেপ ফুটওয়্যার।




