বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উদ্বোধন আজ
ডিজিটাল প্রতারণা ঠেকাবে ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’

ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা বাড়ছে। গুজব ছড়িয়ে লেনদেনে প্ররোচিত করা হচ্ছে। আবার রাতারাতি বড় লাভের প্রলোভনও দেখানো হচ্ছে। এসব ফাঁদ থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতে এবার বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহে গুরুত্ব পাচ্ছে ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিপফেক ও ভুয়া বিনিয়োগ বিজ্ঞাপনের প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন করা হবে। অননুমোদিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ না করা এবং গুজবে কান না দিয়ে তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপরও দেওয়া হবে জোর।
আগামীকাল থেকে ১১ অক্টোবর বাংলাদেশে পালিত হবে ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’। তবে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে আজ এবং সমাপনী অনুষ্ঠান হবে ১২ অক্টোবর। আন্তর্জাতিক সিকিউরিটিজ কমিশন সংস্থা (আইওএসসিও) উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির বাংলাদেশে এবার দশম সংস্করণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১৭ সালে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ চালু করে আইওএসসিও।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেছেন, আইওএসসির সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক নিয়ম ও নির্ধারিত থিম অনুযায়ী বাংলাদেশে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালন করা হবে। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততায় সচেতনতা বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারের ঝুঁকিবোঝা, সিকিউরিটিজের মূল্যায়ন, পোর্টফোলিও গঠন ও বিভিন্ন বিনিয়োগ পণ্যের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা আরও সতর্ক হবেন বলে মনে করে বিএসইসি।
এবারের বৈশ্বিক প্রচারণার মূল স্লোগান— ‘আপনার ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করুন, আজই এটিকে সুরক্ষিত করুন’। বিনিয়োগকারীদের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানো, ডিজিটাল প্রতারণা শনাক্ত করার সক্ষমতা তৈরি, আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্যনির্ভর বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে উৎসাহিত করাই এবারের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
বর্তমান সময়ে এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের চেহারা এবং কণ্ঠস্বর নকল করে ভুয়া বিনিয়োগের বিজ্ঞাপন ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে। প্রযুক্তিনির্ভর এসব প্রতারণা কীভাবে শনাক্ত করা যায় এবং আর্থিক তথ্য কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সে বিষয়ে সচেতন করা হবে বিনিয়োগকারীদের।
আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’। দ্রুত বা রাতারাতি বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জনের অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেওয়া বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করা হবে। বিশেষ করে পঞ্জি স্কিম, অননুমোদিত ফরেক্স ট্রেডিং এবং ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মতো কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ থাকবে। পাশাপাশি এবারের কর্মসূচিতে গুরুত্ব পাচ্ছে বিনিয়োগকারীর স্থিতিস্থাপকতা। বাজারে উত্থান-পতন স্বাভাবিক হলেও সাময়িক দরপতনে আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত না নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হবে বিনিয়োগকারীদের।
বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহে বিএসইসি ছাড়াও ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল, সিসিবিএল, বিএসএম, বিআইসিএম, ডিবিএ, বিএমবিএ, বিএপিএলসি এবং পেশাজীবী সংগঠনগুলো পৃথক কর্মসূচি পালন করবে। আজ বিএসইসির উদ্বোধনী আয়োজনে বিনিয়োগকারীর স্থিতিস্থাপকতা, ডিজিটাল প্রতারণা ও ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’ নিয়ে আলোচনা হবে। আগামীকাল পেশাজীবী সংগঠনগুলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে তাদের ভূমিকা তুলে ধরবে। ৬ অক্টোবর ভবিষ্যৎ উপযোগী বিনিয়োগকারী ও ডিজিটাল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করবে বিএমবিএ ও বিএপিএলসি। ৭ অক্টোবর সিডিবিএল ও সিসিবিএল বিনিয়োগকারীর স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে আলোচনা করবে। ৮ অক্টোবর সিএসই পণ্যভিত্তিক ডেরিভেটিভস ও বিনিয়োগবৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করবে। ১১ অক্টোবর বিএএসএম ও বিআইসিএম বিনিয়োগ সচেতনতা, বাজারের স্বচ্ছতা ও প্রতারণা প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা করবে। ১২ অক্টোবর ডিএসই ও ডিবিএর সমাপনী আয়োজনে গুরুত্ব পাবে ডিজিটাল প্রতারণা ও ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’। আজ বিএসইসির উদ্বোধনী আয়োজনে বিনিয়োগকারীর স্থিতিস্থাপকতা, ডিজিটাল প্রতারণা ও ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’ নিয়ে আলোচনা হবে। আগামীকাল পেশাজীবী সংগঠনগুলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে তাদের ভূমিকা তুলে ধরবে। ৬ অক্টোবর ভবিষ্যৎ উপযোগী বিনিয়োগকারী ও ডিজিটাল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করবে বিএমবিএ ও বিএপিএলসি। ৭ অক্টোবর সিডিবিএল ও সিসিবিএল বিনিয়োগকারীর স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে আলোচনা করবে। ৮ অক্টোবর সিএসই পণ্যভিত্তিক ডেরিভেটিভস ও বিনিয়োগবৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করবে। ১১ অক্টোবর বিএএসএম ও বিআইসিএম বিনিয়োগ সচেতনতা, বাজারের স্বচ্ছতা ও প্রতারণা প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা করবে। ১২ অক্টোবর ডিএসই ও ডিবিএর সমাপনী আয়োজনে গুরুত্ব পাবে ডিজিটাল প্রতারণা ও ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’।



