অর্থমন্ত্রী
পুলিশের পিটুনি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না

সমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী- ফোকাস বাংলা
পুলিশ, র্যাব কিংবা সরকারি লোক দিয়ে ‘পিটিয়ে’ বাজার বা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সঠিক নীতি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, মূল্যস্ফীতি কোনো সাম্প্রতিক সময়ের সমস্যা নয়। এটি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে গত কয়েক বছর ধরে। গত তিন মাস ধরে ৯ শতাংশের বেশি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতাও এর অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ব্যাংক খাতের সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বললেন, অতীতের লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে বেড়েছে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি। ফলে বেড়েছে তহবিলের ব্যয় (কস্ট অব ফান্ড), যা মূল্যস্ফীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় বেড়ে যাচ্ছে আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম।
ব্যবসার খরচ কমাতে সরকার বড় ধরনের সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেছেন, ‘ব্যবসা পরিচালনার সহজতা সূচকে এখনো পিছিয়ে বাংলাদেশ। অনুমোদন বা কোম্পানি নিবন্ধনে দীর্ঘ সময় লাগা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয় এসবের কারণে বাড়ছে ব্যবসার খরচ। এসব সমস্যা দূর করতে ডি-রেগুলেশনসহ বাস্তবায়ন করা হবে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম।’
জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, স্পট মার্কেট থেকে তাৎক্ষণিক কেনার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে যেতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকে। ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় অন্তত তিন মাসের জ্বালানি ও খাদ্য মজুদ রাখার সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে সরকারকে।
‘চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের বন্দরগুলোতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি ও অতিরিক্ত ব্যয় কমানো গেলে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে। অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতি কমাতেও সহায়তা করবে,’ যোগ করেন অর্থমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন অর্থমন্ত্রী।





