তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নানা ছাড়

ফাইল ছবি
দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে এবং ক্রমবর্ধমান তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঢালাও সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ঢাকার বাইরে নতুন শিল্পায়নে দেওয়া হয়েছে বড় ধরনের কর ও ভ্যাট অব্যাহতি।
বিনিয়োগকারীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নিশ্চয়তা দিতে ব্যক্তিশ্রেণিতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্দিষ্ট আয়কর কাঠামো এবং করপোরেট কর হার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। নীতির এ ধারাবাহিকতা ব্যবসায়িক ঝুঁকি কমাবে এবং বন্দর ও টার্মিনালের মতো বড় অবকাঠামো খাতে আন্তর্জাতিকমানের ‘গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ’ আকর্ষণ করবে। এতদিন শুধু আইটি ফ্রিল্যান্সিংয়ে কর অব্যাহতি থাকলেও এবার সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং আয় করমুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। একই সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
তরুণদের স্টার্টআপ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার জন্য টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ এবং স্থানীয় ও আমদানি করা সেবার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ ছাড়া ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে শুল্ক-ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে শিল্পায়নে প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ হারে ত্বরান্বিত অবচয় সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নগদ প্রবাহ ও কর্মসংস্থান বাড়াবে। পাশাপাশি দেশে প্রথমবারের মতো শুল্কমুক্ত ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এসএমই খাতের সুরক্ষায় সাধারণ উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ এবং নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের আয় করমুক্ত থাকবে।
শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াত এবং লজিস্টিক হাব তৈরির মাধ্যমে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ গড়ে তোলার এ বাজেট রূপরেখা মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের কর্মসংস্থান সংকটের একটি বড় সমাধান সম্ভব হবে।




