বাজেট নিয়ে জনমনে প্রতিক্রিয়া স্বস্তির পাশাপাশি শঙ্কাও

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের মানুষের কাছে এখন ‘হট টপিক’ হলো বাজেট। কোন পণ্যের দাম বাড়ল বা কমল, কোন খাত কত বরাদ্দ পেল, রোজকার দিনযাপনে কেমন পড়বে প্রভাব— তাই এখন আলোচনার বিষয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত এই বাজেট নিয়ে পাওয়া গেল সাধারণ মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন, এটি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমুখী বাজেট, আবার কেউ মূল্যস্ফীতি, পণ্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগও জানালেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভরই ঢাকার অন্যতম পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের আলোচনায় ছিল বাজেট প্রসঙ্গ। ফল বিক্রেতা থেকে শুরু করে ফুটপাতের চা-সিগারেট দোকানি, মোবাইল ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতা— সবাই রাখছিলেন নিজেদের মত। ব্যবসায়ীরা বলছিলেন, বাজেটের প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে গিয়ে পড়ে আর সেই চাপ সামলাতে হয় বিক্রেতা ও ক্রেতাকেই। আর ক্রেতাদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে নানা সুবিধার কথা বলা হলেও বাস্তবে বাজারে এর প্রতিফলন দেখা যায় না খুব একটা।
ফল বিক্রেতা এখলাস খান সাগর বললেন, ‘একটু পরপর ফেসবুকে ঢুকে খবর নিচ্ছি। শুনলাম বিদেশি ফলের দাম বাড়বে। এমনিতেই ক্রেতারা এসে অনেক দামাদামি করেন। আরও দাম বাড়লে তো ক্রেতাদের বোঝাতে কষ্ট হয়ে যাবে। অনেকে কিনতে চাইবেন না। আবার প্রতিদিন সব ফল বিক্রি না হলে তো সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। এতে আমরা ক্ষতির মুখে পড়ব।’
কিছুটা হতাশার সুর চা-সিগারেট বিক্রেতা মোহাম্মদ আলমগীরের কথায়। তিনি বলছিলেন, ‘আমার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। ক্রেতারাই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। দাম বাড়লে আমিও বেশি দামে বিক্রি করব। এমনিতেই সিগারেট বিক্রি কমে গেছে, অনেকে কমদামি সিগারেটের দিকে ঝুঁকছেন, আবার অনেকে বলছেন, দাম বাড়লে সিগারেটই ছেড়ে দেবে।’
বাজেটে কমলেও আসলেই সব পণ্যের দাম কমে কি না— সেই প্রশ্ন ওষুধ বিক্রেতা মোহাম্মদ সৌরভের। তার ভাষ্য, ‘কমার কথা তো প্রতি বছরই শুনি। সাত বছর ধরে এই ব্যবসা করছি, কখনো দেখিনি যে ওষুধের দাম কমছে। এবার শুনেছি কিডনি ডায়ালাইসিস পণ্যের দাম কমবে। কিন্তু এগুলো শুধু শুনি, কখনো কমতে দেখিনি। আজ বাজেট দিচ্ছে, কিছুদিন পর সবাই ভুলে যাবেন। তখন দাম যা বাড়ার তা বাড়বেই।’
মোবাইল ফোনের দাম বাড়লে ক্রেতা কমে যায় জানিয়ে মোবাইল ফোন বিক্রেতা মোহাম্মদ ফয়সাল বললেন, ‘মোবাইল ফোনের দাম তো রোজার ঈদের পর থেকেই বাড়ছে। আবার যদি বাজেটেও বাড়ে, তাহলে তো আমাদের অসুবিধা আরও বাড়বে। কারণ তখন ক্রেতারা কম মোবাইল কিনবেন। দাম কমলে আমাদের জন্য সুবিধা, তাহলে বিক্রি বাড়বে।’ কারওয়ান বাজারে নিয়মিত বাজার করতে আসেন আবুল হোসেন। তার কণ্ঠেও হতাশা। তিনি বললেন, ‘বাজেটে দাম কমার বিষয়টি শুধু কাগজে আছে, বাস্তবে নেই। বাজার সাধারণ মানুষের পক্ষে আর নেই। নিম্ন আয়ের মানুষ বাজার করে খেতে পারছেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত বাজার সিন্ডিকেট ভাঙবে না, ততক্ষণ দাম কমবে না। বাস্তবে বাজেটের পর কোনো জিনিসের দাম কমে না। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলব, তারা যেন বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং করে। এ ছাড়া শুধু বাজেটে ছাড় দিয়ে কোনো লাভ নেই।’




