আইএমএফের ঋণের তালিকায় বাংলাদেশ অষ্টম

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে সবচেয়ে বেশি ঋণ রয়েছে আর্জেন্টিনার। সংস্থাটির কাছে দেশটির বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার। এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানটির কাছে বাংলাদেশের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৩৯০ কোটি ডলার, যা ২০২৬ সালের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।
আইএমএফের ঋণসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এক তালিকায় এ চিত্র উঠে এসেছে। অক্টোবর ২০২৬-এর শুরুর দিকের তথ্য অনুযায়ী, ঋণগ্রহীতার তালিকায় আর্জেন্টিনার পর রয়েছে ইউক্রেন, পাকিস্তান, মিসর ও ইকুয়েডর। এই পাঁচ দেশের মধ্যে আর্জেন্টিনার ঋণের পরিমাণ অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।
তালিকা অনুযায়ী, ইউক্রেনের কাছে আইএমএফের পাওনা ১ হাজার ৪৪০ কোটি ডলার। পাকিস্তানের বকেয়া ঋণ ১ হাজার ৮০ কোটি, মিসরের ১০৬০ কোটি এবং ইকুয়েডরের ৯৪০ কোটি ডলার। বাংলাদেশের পরিমাণের চেয়ে এসব দেশের ঋণ বেশি হলেও জিডিপির অনুপাতে ঋণের বোঝা দেশভেদে ভিন্ন।
আর্জেন্টিনার বকেয়া ঋণ দেশটির আনুমানিক জিডিপির ৮ দশমিক ২ শতাংশ। ইকুয়েডরের ক্ষেত্রে এ হার ৬ দশমিক ৮ এবং ইউক্রেনের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।
আর্জেন্টিনার ঋণ সবচেয়ে বেশি
দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও বারবার বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে পড়ার কারণে আইএমএফের কাছে আর্জেন্টিনার ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৮ সালে মুদ্রাবাজারের সংকট মোকাবিলায় দেশটি আইএমএফের কাছ থেকে ৫৭ বিলিয়ন বা ৫ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা পায়। এটি ছিল সংস্থাটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ঋণ কর্মসূচি। পরে ২০২২ সালেও নতুন ঋণ কর্মসূচি নেয় দেশটি।
২০২৫ সালের এপ্রিলে আর্জেন্টিনার জন্য ২০০০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি অনুমোদন করে আইএমএফ। এর আওতায় তাৎক্ষণিকভাবে ১২০০ কোটি ডলার ছাড় করা হয়। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই ছিল এ কর্মসূচির লক্ষ্য।
দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইয়ের সরকার ব্যয় সংকোচন, রাজস্ব শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও বিনিময় হার ব্যবস্থায় পরিবর্তনের মতো সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব সংস্কারে সহায়তা দিতে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি ভূমিকা রাখছে।
যুদ্ধের চাপে ইউক্রেন
আইএমএফের কাছে ঋণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইউক্রেনের অর্থনীতিতে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের বড় প্রভাব রয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর দেশটির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হয়েছে এবং সরকারের ব্যয় বেড়েছে। ফলে অর্থনীতি সচল রাখা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে কর আদায়ে দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং জ্বালানি খাতের দেনা বড় সমস্যা হিসেবে রয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় করের আওতা বাড়ানো, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা ও সরকারি অর্থব্যবস্থায় সংস্কারের শর্তে দেশটিকে ঋণ দিচ্ছে আইএমএফ।
ঋণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান
আইএমএফের কাছে ঋণগ্রহীতার তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। বাংলাদেশের আগে থাকা দেশগুলোর মধ্যে আইভরি কোস্টের বকেয়া ঋণ ৫৬০ কোটি, ঘানার ৪০০ কোটি এবং বাংলাদেশের পরের অবস্থানে থাকা কেনিয়ার ৩৮০ কোটি ডলার।
তালিকার শীর্ষ ১৫ দেশের মধ্যে আরও রয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, শ্রীলঙ্কা, অ্যাঙ্গোলা, ইথিওপিয়া, কোস্টারিকা ও জর্ডান। জর্ডানের কাছে আইএমএফের বকেয়া ঋণ ২৩০ কোটি ডলার হলেও দেশটির জিডিপির অনুপাতে এ ঋণের পরিমাণ ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ মোট ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি অর্থনীতির আকারের তুলনায় ঋণের বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশের কাছে আইএমএফের বকেয়া ঋণের পরিমাণ দিয়ে এককভাবে সেই দেশের অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিচার করা যায় না। অর্থনীতির আকার, বৈদেশিক মুদ্রার আয়, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং ঋণের অর্থ ব্যবহারের কার্যকারিতাও বিবেচনায় নিতে হয়।



