সীমান্ত হাট চালু ও স্থলবন্দর সচল চায় ঢাকা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও বাড়াতে বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট আবার চালু, স্থলবন্দরগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর চেয়েছে ঢাকা। পাশাপাশি স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হবে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উঠে আসে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিভিন্ন বিষয়।
২০২৫ সালের এপ্রিলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির সুবিধা বাতিল করে। এর আগে দেশের বস্ত্রশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) দেশীয় স্পিনিংশিল্পকে সুরক্ষার জন্য ভারত থেকে স্থলপথে সুতা আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল, ভারত থেকে তুলনামূলক কম দামে সুতা আসায় স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো পড়েছে চাপের মুখে।
শুধু সুতা নয়, সীমান্ত হাট বন্ধ থাকাও সীমান্তবর্তী অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। এসব হাটে দুই দেশের সীমান্ত এলাকার ছোট ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নির্ধারিত সীমার মধ্যে পণ্য কেনাবেচার সুযোগ পেতেন। ফলে সীমান্ত হাট স্থানীয় মানুষের আয়, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করত। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও হয়েছে বাধাগ্রস্ত।
এ অবস্থায় বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালুর জন্য এই বৈঠকে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে স্থলবন্দরগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা গেলে পণ্য পরিবহন ও খালাসের গতি বাড়বে এবং কমতে পারে ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয়।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি এসেছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে কীভাবে ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সহজ ও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
তিনি বলেছেন, চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা, বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট ফের চালু করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও প্রস্তাব এসেছে। এর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যে গতি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতীয় হাইকমিশনারের উদ্যোগে আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।’
বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ‘দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও সাধারণ মানুষ উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কেউ বড় বা ছোট নয়, সবাই সমান। এ সমতার ভিত্তিতেই দুই দেশকে কাজ করে যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী হলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।’
যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেছেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত সফল। এ খাতে ভারত জিপার, মেশিনারি, বোতামসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে। এতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা আরও বাড়বে।’
আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা পোশাক দেখে তিনি গর্ব অনুভব করেন বলে জানিয়েছেন। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে পারে আরও বড় পরিসরে।






