ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-গ্রাহক মুখোমুখি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে গতকাল বুধবার ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে সচেতন গ্রাহক ফোরাম এবং চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মারমুখী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। দুপক্ষের কর্মসূচি কেন্দ্র করে মতিঝিল এলাকায় কড়া নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানালেন, গতকাল সকাল থেকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের নিচে অবস্থান নেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা। তারা বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এর আগে টানা চার দিন ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন তারা।
অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গতকাল মুহুর্মুহু স্লোগানে ব্যাংকটির অদূরে অবস্থান নেন। ‘দফা এক, দাবি এক, চাকরি ফেরত চাই’— এমন দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকাসহ সারা দেশের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী এ কর্মসূচিতে যোগ দেন।
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বললেন, ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার করে ব্যাংকের স্বার্থে তা বাজেয়াপ্ত করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, অবৈধভাবে নেওয়া ঋণ সুবিধাগুলো সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ দাবি করেন, আন্দোলনরত চাকরিচ্যুতদের বড় একটি অংশ চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা এবং এস আলম গ্রুপের সময়ে ব্যাংক থেকে ঋণ বিতরণ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা টিপু জানালেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন খরচ চালাতে তাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।



