প্রত্যাহার হতে পারে ব্যাংক হিসাবে টিআইএনের বাধ্যতা

টিআইএন। ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা হিসাব খুলতে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) সনদ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে সরে আসতে পারে সরকার। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে হয়েছে আলোচনা। প্রধানমন্ত্রী দেশে আসার পর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে বৈঠকের বিষয়ে অবগত সূত্র।
‘আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত অর্থবিলে কর জাল সম্প্রসারণের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে আরোপ করা হয় টিআইএন সনদের বাধ্যবাধকতা। এরপর বিভিন্ন পক্ষ থেকে করা হয় ব্যাপক সমালোচনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ নিয়ম থেকে সরে আসার কথা ভাবছে সরকার’— গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম গোপন করে তথ্য দিলেন এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা। গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। ওই বাজেটে আছে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদের বাধ্যবাধকতা। তবে সাধারণ শিক্ষার্থী, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অধীনে সরকারি ভাতাভোগী ব্যক্তি কিংবা বিশেষ গেজেটপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ ছাড়।
মূলত করের আওতা বৃদ্ধি, করফাঁকি রোধ ও অবৈধ বা বড় অঙ্কের লেনদেনের ওপর নজরদারি জোরদারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে অর্থবিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয় টিআইএন সনদ দাখিলের বাধ্যবাধকতা। এতে সাধারণ মানুষের বাড়তি বিড়ম্বনা, হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি অনেকেই ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে চলে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা খাতসংশ্লিষ্টদের।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্নেহাশীষ মাহমুদ অ্যান্ড কোম্পানির (এসএমএসি) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া আগামীর সময়কে বললেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে টিআইএনের বাধ্যবাধকতার কারণে নানা ধরনের বিড়ম্বনা কিংবা হয়রানির শিকার হতে হবে বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ, যা ব্যাংকিং চ্যানেলে আসতে নিরুৎসাহিত করবে অনেককেই।




