শাস্তির পরিবর্তে সময় চায় মার্চেন্ট ব্যাংক

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করায় ব্যবসা ও আয় কমে মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে দেশের মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), বন্ড ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ ইস্যুর কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শেয়ারবাজারে লেনদেন ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ সংকুচিত হয়েছে। অন্যদিকে জনবল, প্রযুক্তি, নিয়ন্ত্রক পরিপালন ও পরিচালন ব্যয় অব্যাহত থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে। ফলে কিছু মার্চেন্ট ব্যাংকের নিট সম্পদ নির্ধারিত সীমার নিচে নেমে গেছে এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে তা ঋণাত্মক পর্যায়েও পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানকে দেওয়া এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দিয়েছে বিএমবিএ। সংগঠনটি বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কারণে যেসব প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদমূল্য নির্ধারিত সীমার নিচে নেমেছে, তাদের জন্য শর্তসাপেক্ষে সময় সীমাবদ্ধ ও মাইলস্টোনভিত্তিক মূলধন পুনরুদ্ধার কাঠামো চালু করা যেতে পারে।
বিএমবিএ সাধারণ সম্পাদক ও এমটিবি ক্যাপিটালের সিইও সুমিত পোদ্দার আগামীর সময়কে বলেছেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর নতুন আইপিও এবং বন্ডের অনুমোদন না থাকায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ফি-ভিত্তিক আয় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণত শেয়ারের আনরিয়ালাইজড লসের বিপরীতে অনেক মার্চেন্ট ব্যাংক বিএসইসির কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা বা সময়ের আবেদন করলেও, পোর্টফোলিও ব্যবসা না থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো সেই সুবিধা নিতে পারেনি। এ অবস্থায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর অনুরোধে নীতিগত সহায়তার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।
বিদ্যমান সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার অ্যান্ড পোর্টফোলিও ম্যানেজার) রুলস, ১৯৯৬ অনুযায়ী, মার্চেন্ট ব্যাংককে পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নিট সম্পদ হিসাবে রাখতে হয়। বিএমবিএর মতে, করোনা-পরবর্তী দীর্ঘস্থায়ী মন্দা ও দুর্বল বাজার কার্যক্রমই এ ঘাটতির প্রধান কারণ। নতুন আইপিও, বন্ড ও সিকিউরিটিজ ইস্যু প্রত্যাশিত মাত্রায় না থাকায় এবং আন্ডাররাইটিং, পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা, পরামর্শক ও অন্যান্য সেবা থেকে আয় কমেছে। বিপরীতে কমপ্লায়েন্স, প্রযুক্তি ও পেশাগত ব্যয় অব্যাহত থাকায় পরিচালনাগত লোকসানে ক্ষয় হয়েছে মূলধন।
এ অবস্থায় যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিট সম্পদ সংরক্ষণের শর্ত পূরণে যৌক্তিক সময় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে বিএমবিএ— তবে এটি শর্তহীন ছাড় নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে পর্ষদ অনুমোদিত মূলধন ও ব্যবসা পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। এতে পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা থাকবে এবং বিএসইসিকে নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে হবে। সব মার্চেন্ট ব্যাংককে একইভাবে বিবেচনা না করে প্রতিষ্ঠানভেদে বর্তমান মূলধন পরিস্থিতি, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, চলমান আবেদন, বাস্তবায়নযোগ্য ম্যান্ডেট ও অতীত রেকর্ড মূল্যায়ন করা উচিত। সক্রিয় ও ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা থাকা প্রতিষ্ঠানকে নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।
এ ছাড়া মূলধন ঘাটতির কারণে ইস্যু ম্যানেজমেন্ট, ঋণব্যবস্থা, এসএমই তালিকাভুক্তি ও পরামর্শক সেবার মতো আয়-উৎপাদনকারী কার্যক্রম সীমিত না করার অনুরোধ করেছে বিএমবিএ। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানগুলো মূলধন পুনর্গঠন করতে পারবে। এর পরিবর্তে সুরক্ষা ব্যবস্থা ও লেনদেনভিত্তিক নজরদারি জোরদারের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।






