সংস্কার ছাড়া সংকট উত্তরণের বিকল্প নেই
- র্যাপিডের সেমিনারে অর্থ উপদেষ্টা

সংগৃহীত ছবি
চলমান অর্থনৈতিক সংকটকে দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, ভয়ের সংস্কৃতি, জবাবদিহিহীনতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার বৃত্ত ভেঙে একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে উৎপাদনমুখী শিল্পায়ন এবং গভীর সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) আয়োজিত ‘বাজেট অর্থবছর-২০২৬-২৭: সংস্কারের ইঙ্গিত, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং বাস্তবায়নের ঝুঁকি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
তিতুমীর বলেছেন, অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ঋণনির্ভর বা কৃচ্ছ্রসাধনভিত্তিক মডেলের পরিবর্তে বিনিয়োগ-উৎপাদন-কর্মসংস্থান-রাজস্ব বৃদ্ধির ধারাবাহিক চক্রভিত্তিক নতুন অর্থনৈতিক মডেল প্রয়োজন। করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং কর কাঠামোকে স্থিতিশীল রাখার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, অপ্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া ও দুর্নীতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল ভ্যালিডেশন এবং কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
উপদেষ্টা বলেছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে বড় ধরনের সংস্কার ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি জ্বালানির বহুমুখীকরণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, বৈদ্যুতিক যানবাহনশিল্প গড়ে তোলা এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুদের প্রস্তাব দেন।
তিনি আরও বলেছেন, ২০৩১ সালের উন্নয়নশীল দেশের লক্ষ্য অর্জন এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
মূল প্রবন্ধে র্যাপিডের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অন্তত ১ লাখ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে। শুধু রাজস্ব খাত নয়, বিদেশি ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।




