ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স বিধিমালায় জটিলতা
- স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে ডেনমার্ক দূতাবাস

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং খাতে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের একটি নীতিগত অনিশ্চয়তা দূর করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকার ডেনমার্কের দূতাবাস। দূতাবাসের মতে, বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স রুলস-২০০৮ অনুযায়ী শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পেত। তবে ২০১৫ সালে বিধিমালার সংশোধনের পর নতুন করে শতভাগ বিদেশি মালিকানায় প্রতিষ্ঠান গঠনের সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সংশোধনের আগে বৈধভাবে নিবন্ধিত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কীভাবে নবায়ন হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট বিধান নেই।
২০০৬ সালে দেশে প্রায় ৬৫০টি ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২টি ছিল শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন এবং ২০টি যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছিল। বর্তমানে দেশে কয়েক হাজার ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং প্রতিষ্ঠান থাকলেও বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম। এসব পুরনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়নই এখন প্রধান উদ্বেগের বিষয়।
এদিকে প্রণয়নাধীন ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স রুলস-২০২৫-এ পুরনো লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও, লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা হয়নি। ডেনমার্ক দূতাবাসের চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ডার্স বি. কার্লসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান লাইসেন্সধারীদের নতুন বিধিমালায় স্বীকৃতি দেওয়া হলেও তারা আগের নিয়মে লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ পাবেন কি না, তা পরিষ্কার নয়।
দূতাবাস অনুরোধ করেছে, নতুন আবেদনকারীদের জন্য নির্ধারিত কঠোর শর্ত যেন আগে থেকেই বৈধভাবে পরিচালিত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রযোজ্য না করা হয়। তাদের মতে, এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান এনবিআরের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেও সমাধান পায়নি। এমনকি কয়েকটি বিষয় আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, বিষয়টি এখন শুধু একটি প্রশাসনিক সমস্যা নয়। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও বাংলাদেশের চলমান বাণিজ্য সংলাপেও একটি অশুল্ক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা (নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার) হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। ফলে এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিবেশের সঙ্গেও জড়িত।
চিঠিতে বলা হয়েছে, লাইসেন্স নবায়ন বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা বা ব্যাখ্যা দিলে বিদ্যমান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে, আইনি জটিলতা কমবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ আরও স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব গন্তব্য হিসেবে পরিচিত হবে।




