পোশাক রপ্তানি
কমছে ইউরোপে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে
- জ্বালানি সংকট ও নীতির অনিশ্চয়তায় ক্রেতাদের উদ্বেগ
- অপ্রচলিত বাজারেও সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও অপ্রচলিত বাজারগুলোয় ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানি বেড়েছে তুলনামূলক কম।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬১ কোটি ২৯ লাখ ডলার। অন্যদিকে অপ্রচলিত বাজারে ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ কোটি ৩২ লাখ ডলার। আবার ইইউতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এ সময় রপ্তানি হয়েছে ৩৪৯ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। মোট পোশাক রপ্তানিতে ইইউর অংশও ৪৭ দশমিক ৮২ থেকে কমে ৪৬ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমেছে।
অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে তুরস্কে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ৯৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ব্রাজিলে বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৩৭ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৪ দশমিক ২১ শতাংশ। তবে রাশিয়া, চীন ও ভারতে রপ্তানি কমেছে যথাক্রমে ৩৩ দশমিক ৯৫, ১৬ দশমিক শূন্য ৪ ও ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এদিকে জুলাই-আগস্টে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৪৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি। নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ এবং ওভেন পোশাক ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেছেন, জ্বালানি সংকট ও সরকারি নীতির ধারাবাহিকতার অভাবে পোশাকশিল্প কঠিন সময় পার করছে। বিদেশি ক্রেতারা আস্থাহীনতায় ভুগছেন এবং বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ওপর নজর রাখছেন। এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্রয়াদেশ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে বৈশ্বিক পোশাক বাজারেও দ্রুত পরিবর্তন আসছে। আন্তর্জাতিক কটন উপদেষ্টা কমিটির (আইসিএসি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০০৬ সালের ১৪তম অবস্থান থেকে ২০২৫ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বস্ত্র রপ্তানিকারক দেশে উঠে এসেছে। একই সময়ে বিশ্ববাজারে সিনথেটিক তন্তুর ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। ফলে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বৈচিত্র্য, উৎপাদন দক্ষতা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অপ্রচলিত বাজারের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক সূচনা দিয়েছে। তবে ইউরোপের ধীর প্রবৃদ্ধির কারণে বাজার বৈচিত্র্যকরণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।





