সংকটে মিউচুয়াল ফান্ড
- বিজিআইসির গাফিলতি

সংগৃহীত ছবি
দেশের শেয়ারবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ মাধ্যম মিউচুয়াল ফান্ড আজ চরম আস্থাহীনতা ও সংকটে নিমজ্জিত। এ বিপর্যয়ের পেছনে শুধু অ্যাসেট ম্যানেজারদের অব্যবস্থাপনা নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় নিয়োজিত ট্রাস্টিদের ব্যর্থতাই প্রধানত দায়ী। বিশেষ করে, দেশের অন্যতম শীর্ষ ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাধারণ বীমা কোম্পানির (বিজিআইসি) অব্যাহত গাফিলতি ও তদারকির অভাবেই সম্ভাবনাময় এ খাতটি দাঁড়িয়েছে খাদের কিনারায়।
মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০০১ অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা, অ্যাসেট ম্যানেজারদের তদারকি এবং কাস্টডিয়ানের কাছে থাকা সম্পদের সঠিকতা নিশ্চিত করা ট্রাস্টির মূল দায়িত্ব। অনিয়ম শনাক্ত হলে তা সংশোধন করা এবং কমিশনকে জানানোর আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি বিজিআইসি তা যথাযথভাবে পালন করেনি। তারা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে সুবিধা দিয়েছে অ্যাসেট ম্যানেজারদের।
বর্তমানে বিজিআইসি ১৩টি তালিকাভুক্ত ও ৫টি অ-তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি। তালিকাভুক্ত ১৩টি ফান্ডের পরিশোধিত মূলধন প্রায় ২ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা হলেও তদারকির ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনায় ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ইউনিট দর গড়ে ৪.৭৯ টাকায় নেমে এসেছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা মূলধনের অর্ধেকের বেশি হারিয়েছেন।
ব্যর্থতার কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বিজিআইসিকে এরই মধ্যে দুই দফায় মোট ৪ কোটি টাকা জরিমানা করেছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ২১ অক্টোবর এলআর গ্লোবালের ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডে তদারকির অভাবে ৩ কোটি টাকা এবং ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স ফান্ডের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় আরও জরিমানা করা হয় ১ কোটি টাকা।
মিউচুয়াল ফান্ড বিভাগের দায়িত্ব পালন করা বিএসইসির সাবেক এক কমিশনার বলছেন, ট্রাস্টির দায়িত্ব অনেক। আইনেও তাদের দায়িত্ব ভালোভাবেই দেওয়া আছে। তারা যেমন অডিটিং করে, তেমনি কাস্টডিয়ানের কাছে থাকা সম্পদের সঠিকতাও যাচাই করে। কোনোকিছুর ব্যত্যয় ঘটলে, তা শোধরাতে তারা ভূমিকা রাখে।
তার ভাষ্য, মিউচুয়াল ফান্ডের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি অনেক সমস্যা পেয়েছেন। যেখানে ট্রাস্টির অনেক ব্যর্থতা ও গাফিলতি উঠে আসে। এগুলোর রিপোর্ট করা হয়েছিল। পরবর্তী কমিশন সেটাকে কীভাবে দেখছে এবং কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, এটা তারা ভালো বলতে পারবে।
অন্যদিকে, বিজিআইসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও আহমেদ সাইফুদ্দীন চৌধুরীর দাবি, ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ট্রাস্টির নয়। এমনকি ফান্ডের সম্পদ হেফাজতের দায়িত্বও তাদের ওপর বর্তায় না।
তবে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ট্রাস্টি হিসেবে ফান্ডের সার্বিক তদারকি এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষার দায় কোনোভাবেই এড়ানোর সুযোগ নেই।




