বাংলাদেশ ব্যাংক
রিজার্ভ চুরির ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত

আরিফ হোসেন খান
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ ও তদারকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম দায়িত্ব। সেজন্য নেওয়া হয় বিভিন্ন স্তরের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। কিন্তু নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে চুরি হয়েছে রিজার্ভ। যেখানে দেশি-বিদেশি নানা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জড়িত থাকার অভিযোগ। এমন ঘটনায় ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। পাশাপাশি রাষ্ট্রও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার খসড়া অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে। আইনি মতামত পাওয়ার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং এরপর শুরু হবে বিচারিক প্রক্রিয়া।
আজ বৃহস্পতিবার রিজার্ভ চুরির ঘটনার ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এসব কথা বলছিলেন প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলছিলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম এসেছে। তবে চূড়ান্ত অভিযোগপত্রে কী থাকে এবং বিচার শেষে আদালতের রায়ে কী সিদ্ধান্ত আসে— সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এ মামলার নিষ্পত্তি হলে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্বস্তির জায়গায় পৌঁছাবে। কারণ ঘটনাটি প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তির জন্য বড় আঘাত ছিল।’
ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আরিফ হোসেন খান জানাচ্ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে তিনিও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তার ভাষায়, ‘এ ধরনের ঘটনা আমাদের গৌরবময় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি যাতে গাফিলতি কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার সাহস না পায়, সেজন্য একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রয়োজন।’
‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তারা দেশি বা বিদেশি— যেই হোক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান তাদের বিপক্ষেই থাকবে। সাবেক কর্মকর্তা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি হলেও সবার ক্ষেত্রে একই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হবে’।
প্রায় এক দশক তদন্তের পর অবশেষে গতি পেয়েছে রিজার্ভ চুরির মামলা। খসড়া অভিযোগপত্রে দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করেছে সিআইডি। ১০ হাজার পৃষ্ঠার মামলার ডকেট ও খসড়া চার্জশিটে উঠে এসেছে অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিস্তর ফরেনসিক তথ্যপ্রমাণ।
সিআইডি সূত্র জানাচ্ছে, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতিতে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। ঘটনার ৩৯ দিন পর রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুরু থেকেই মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।
পুলিশের বিশেষ এই ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের ১১ মার্চ সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে প্রধান করে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয় সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ওই কমিটির তত্ত্বাবধানে রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। খসড়া অভিযোগপত্রে ফিলিপাইনের ৩৬, উত্তর কোরিয়ার ২, চীনের ৩, শ্রীলঙ্কার ৮, জাপানের ১, ভারতের ৪ এবং বাংলাদেশের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে।





