রিজার্ভের লক্ষ্য অর্জন কঠিন

সংগৃহীত ছবি
আগামী বাজেটে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ৫১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, বর্তমান বাস্তবতায় তার অর্থনৈতিক তাৎপর্য খুবই সামান্য। এটি মূলত উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হিসাব মেলাতে বা সমীকরণটি কাগজ-কলমে ভারসাম্যপূর্ণ দেখাতে নির্ধারণ করা একটি কাল্পনিক লক্ষ্যমাত্রা শুধু। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে।
আসন্ন বাজেটে এ সমীকরণের প্রধান চালক বা ভেরিয়েবলগুলো যেমন— জিডিপি প্রবৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ও পোর্টফোলিও বিনিয়োগসহ সামগ্রিক বিনিয়োগ এবং আইএমএফ বা অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের বৈদেশিক সহায়তার প্রবৃদ্ধি— সবক্ষেত্রেই স্থবিরতা চলছে। ফলে বাস্তব চিত্র হলো, আমাদের রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই।
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নিয়ামক হচ্ছে রপ্তানি আয়। আট মাস ধরে রপ্তানি আয়ে ভাটা দেখা দিয়েছে। অনেক দেশে বিশেষ করে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউকের মতো বড় বাজাের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় আমদানি করতে অত্যধিক ডলার ব্যয় হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
এ ছাড়া প্রতি বছর কোরবানির ঈদে রেমিট্যান্স বাড়ে, এটি স্বাভাবিক। ফলে এবার সাময়িকভাবে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে কোনো টেকসই ও আশাব্যঞ্জক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া এখন হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসছে, ডলার সংকট কাটাতে যেখানে হুন্ডি বন্ধ ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলে ডলারের জোগান বাড়ানো জরুরি, সেখানে কাঠামোগত সংস্কারে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। ফলে সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলোর এমন দুর্বল পরিস্থিতিতে শুধু আইএমএফের ঋণের ওপর ভর করে কোনো শক্ত ভিত্তি ছাড়াই রিজার্ভের এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা বেশ কঠিন এবং এটি মূলত একটি অতি আশাবাদী ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা।




