লবিংয়ে ঝুলছে ভোক্তাস্বার্থ
- খাদ্য লেবেলিং খসড়া বিধিমালা চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়

সংগৃহীত ছবি
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর খাদ্যশিল্পের অদৃশ্য বাধায় ঝুলে রয়েছে ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ খসড়া বিধিমালা। বিশ্বের ৪৪টি দেশে ব্যবসায়ীদের চরম প্রতিরোধ মাড়িয়ে এই জনস্বাস্থ্যবান্ধব আইন সফলভাবে চালু করা গেলেও বাংলাদেশে এখনো তা হয়ে ওঠেনি। এখানেও খসড়াকে দুর্বল ও বিলম্বিত করতে পর্দার আড়ালে শুরু হয়েছে প্রভাবশালী কোম্পানিগুলোর জোরাল লবিং ও কূটকৌশল, যে কারণে এখনো ফাইলবন্দি হয়ে রয়েছে বিধিমালাটি।
সাধারণ ভোক্তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি মোড়কের ওপরেই স্পষ্ট করার এই আইনি উদ্যোগ চূড়ান্ত হলে তা ক্রেতাদের স্বাস্থ্যসচেতন করার পাশাপাশি ভোক্তাস্বার্থ রক্ষায় এক যুগান্তকারী ঢাল হিসেবে কাজ করবে। তবে এর বাস্তবায়নের ধীরগতিতে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে অংশীজনের মধ্যে।
বিধিমালাটি চূড়ান্ত অনুমোদনের পর দেশ জুড়ে বাধ্যতামূলক হতে যাওয়া এ প্রস্তাবিত বিধিমালা মূলত দীর্ঘদিনের প্রচলিত বাজারজাতকরণ সংস্কৃতি ভেঙে এটি সরাসরি ভোক্তার তথ্য জানার অধিকারকে নিশ্চিত করবে। এই প্রবিধানমালার সবচেয়ে বড় বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে, ‘ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং’ বা এফওপিএল সতর্কবার্তা প্রবর্তন। যদি কোনো খাদ্যপণ্যে চিনি, সোডিয়াম বা লবণ এবং সম্পৃক্ত চর্বি (স্যাচুরেটেড ফ্যাট) বেশি বা অতিরিক্ত পরিমাণে থাকে, তবে কোম্পানিগুলো আর সে তথ্য লুকিয়ে রাখতে পারবে না।
এফওপিএল চালুর বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা সফল হলেও খাদ্যশিল্পের বাধায় এর বাস্তবায়ন সহজ নয়। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়; এখানেও খসড়া বিধিমালা দুর্বল এবং বিলম্বিত করতে পর্দার আড়ালে লবিং শুরু হয়েছে। এমনকি একটি প্রভাবশালী কোম্পানি এরই মধ্যে এফওপিএল বিকৃতভাবে ব্যবহার করেছে এবং অনেকে একে ‘বাধ্যতামূলক’ না করে ‘স্বেচ্ছামূলক’ করার দাবি জানাচ্ছে।
প্রক্রিয়াজাত খাবারের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ভোক্তার অধিকারের বিষয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের আহমেদ বললেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশই ঘটছে অসংক্রামক রোগের কারণে। আর এ ধরনের অসুস্থতার জন্য প্রধানত দায়ী অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার। আমরা আসলে কোনো খাবার বন্ধ করার পক্ষে নই; বরং আমরা যা খাচ্ছি, তাতে কী আছে, তা জানা আমাদের মৌলিক অধিকার। প্রস্তাবিত এফওপিএল ব্যবস্থাটি ভোক্তাদের সেই অধিকারই নিশ্চিত করবে। তাই জনস্বার্থ রক্ষায় এই খসড়া বিধিমালাটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত আকারে পাস হওয়া অত্যন্ত জরুরি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য ড. মোহাম্মদ শোয়েব আগামীর সময়কে বললেন, ‘চলতি বছরের ৩০ জুনের আগেই আমাদের কাজ শেষ করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে প্রবিধানমালাটি জমা দিয়েছি। এর আগে এ নিয়ে সব ধরনের অংশীজনের সঙ্গে আমরা একাধিক বৈঠক করেছি। তাদের কয়েক হাজার মতামতের আলোকে আমরা খসড়া করেছি।’




