কোরিয়ার সহায়তায় সেতুর পরীক্ষাগার
- খরচ ১১৫ কোটি টাকা

কাশিয়ানীর মধুমতী সেতু। ছবি: সংগৃহীত
দেশে প্রথমবারের মতো সেতুর আয়ুষ্কাল বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ল্যাবরেটরি টেস্ট বা পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কাজে বেছে নেওয়া হয়েছে চারটি সেতুকে। এগুলো হলো— রূপগঞ্জের ডেমরা সেতু, ঘিওরের তরা সেতু, কাশিয়ানীর মধুমতী সেতু এবং শ্রীপুরের কামারখালী সেতু। প্রাথমিক পরীক্ষায় সফল হলে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে সারা দেশে। এ লক্ষ্যে ‘ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট ফর স্মার্ট মেইনটেন্যান্স টেকনোলজি অব ব্রিজেস আন্ডার রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজ ডিপার্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৭ কোটি ৭৬ লাখ এবং কোরিয়ার অনুদান থেকে ১০৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানিয়েছে, কোরিয়ার সহযোগী সংস্থা কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) সঙ্গে এরই মধ্যে আলোচনা শেষ হয়েছে এবং অনুদান দিতে সম্মতি জানিয়েছে সংস্থাটি।
রূপগঞ্জের ডেমরা সেতু, ঘিওরের তরা সেতু, কাশিয়ানীর মধুমতী সেতু, শ্রীপুরের কামারখালী সেতুতে পরীক্ষাকাজ চলবে
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, আগামী বুধবার অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ ও নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাবটির (টিএপিপি) মোট ব্যয় ৫০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় এটি একনেকে অনুমোদনযোগ্য। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়ার ভাষ্য, ‘প্রস্তাবিত প্রকল্পটির মাধ্যমে উন্নত ব্রিজ হেলথ মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার করে ব্রিজগুলোর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ব্রিজগুলোর ব্যবস্থাপনা সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ীভাবে করা যাবে। এজন্য কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাবটির ব্যয়টির (টিএপিপি) মোট ব্যয় ৫০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় একনেক বৈঠকে অনুমোদনযোগ্য। এজন্য করা হয়েছে উপস্থাপনের সুপারিশ।’
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পাইলটিং হিসেবে নির্বাচিত চারটি সেতুর মধ্যে দুই ধরনের কাজে দুটি সেতুকে কমন রেখে মোট তিনটিতে মেরামত, পরিবীক্ষণ ও ডিজাইন সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া তিনটি সেতুতে স্মার্ট হেলথ মনিটরিং টেকনোলজি (এসএইচএমএস) প্রয়োগ করা হবে। ফলে সময়োপযোগী মেরামত ও ব্যবস্থাপনার কারণে সেতুগুলোর আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের অর্থ সাশ্রয়ে তা কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের পাঠানো এ প্রস্তাব পেয়ে পরিকল্পনা কমিশন ২০২৫ সালের ৩ জুলাই বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভা করে। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরে প্রকল্প প্রস্তাবটি সংশোধন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নির্বাচনী ইশতেহারের তৃতীয় অধ্যায়ে বর্ণিত যোগাযোগ ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি সমন্বিত ও স্মার্ট ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে অনেকটাই।






