দিনাজপুরে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুতে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা

ফাইল ছবি
দিনাজপুর সদরের কলেজ মোড়ে বাড়ি আব্দুল আলিমের (৫০)। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে গত সপ্তাহে কিনেছেন চার্জার ফ্যান। বলছেন, গরমের সঙ্গে যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। আবহাওয়া মেঘলা থাকলে স্বাভাবিক হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ, চলে যায় তাপ ফিরলে।
স্থানীয়রা জানালেন, লোডশেডিংয়ে ব্যবসায়ী থেকে শিক্ষার্থী— সব শ্রেণির মানুষ ভুগছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গরম বাড়লে সদর উপজেলায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমে যায়। গত ১৬ থেকে ১৮ জুন উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৬০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ ছিল ৩৪ মেগাওয়াট।ফলে ওই সময়ে প্রতিদিন উপজেলায় ৫-৬ বার বিদ্যুৎ যায়। লোডশেডিং হয় ৪-৫ ঘণ্টা করেও।
কয়েক দিন পরপর লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রাইসমিলের মালিকরা। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
দিনাজপুরের নেসকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুবেল হাওলাদার আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘জেলা সদরের একটি অংশে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় নেসকোর মাধ্যমে। গরমে বিদ্যুতের চাহিদা দ্বিগুণ হয়। তাই সরবরাহ না বাড়ায় লোডশেডিং দিতে হয়। গত সপ্তাহে গরম বেশি ছিল। সে সময় চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে লোডশেডিং হয়েছে। তবে এ সপ্তাহের শনি থেকে সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ায় লোডশেডিং হয়নি।’
তবে পল্লী বিদ্যুতের অধীনে থাকা গ্রামগুলোয় গরম বাড়লে দৈনিক লোডশেডিং হয় ছয়-সাত ঘণ্টার মতো। গরম কম থাকলেও প্রতিদিন দুই-তিন ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হয় বাসিন্দাদের।
বীরগঞ্জ উপজেলার নাগরগঞ্জের বাসিন্দা মো. মিলন ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘আবহাওয়া মেঘলা থাকার পরেও প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। রাতের বেলা গরমে ঘুম থেকে উঠে বসে থাকতে হয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।’
পাল্টাপুর ইউনিয়নের আবু বক্করের ক্ষোভ, ‘গত শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিদুৎ ছিল না। এই সময়ের মধ্যে ৫ মিনিট করে দুবার বিদ্যুৎ এসেছিল। লোডশেডিংয়ের কারণে খুব যন্ত্রণায় আছি। ঠিকমতো কৃষিকাজও করা যাচ্ছে না।’
বীরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. আইয়ুব আলী জানালেন, বিদ্যুতের সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। তবে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তিনি।






