লাল মাকড়শা ও লোডশেডিংয়ে সংকটে মাধবপুরের চা শিল্প

ছবি: আগামীর সময়
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে রেড স্পাইডার বা লাল মাকড়শা পোকার আক্রমণ এবং তীব্র লোডশেডিংয়ে চা শিল্পে সংকট দেখা দিয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বাগান মালিক, কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের মধ্যে।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন না হলে বাগানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।
বাংলাদেশীয় চা সংসদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সুরমা চা বাগানে রেড স্পাইডার পোকার আক্রমণের তথ্য এসেছে ওঠে। এ পোকা শুষে নেয় চা গাছের কচি পাতার রস। ফলে নতুন পাতাগুলো লালচে-কালো রঙ ধারণ করছে এবং বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক বৃদ্ধি।
চা বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে গত মাসের তুলনায় মে মাসে গজিয়েছে কিছুটা নতুন কুঁড়ি। তবে এ সময় সাধারণত উৎপাদন আরও বেশি হওয়ার কথা থাকলেও এবার কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
তাদের ভাষ্য, উৎপাদন কমে গেলে শ্রমিকদের মজুরি, রেশন, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হবে বাগান কর্তৃপক্ষকে।
এদিকে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও করে তুলেছে জটিল। দিনে-রাতে মিলিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পাওয়া যাচ্ছে বিদ্যুৎ। এতে কারখানাগুলোতে সময়মতো চা প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চা পাতা।
জেলার জগদীশপুর চা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক সময় অলস বসে থাকছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের অভিযোগ, আগে কখনো এত দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং হয়নি।
দেশের অন্যতম বৃহৎ সুরমা চা বাগানেও দেখা গেছে একই চিত্র। বাগানের বিস্তীর্ণ এলাকায় রেড স্পাইডারের আক্রমণে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে পরিচালন ব্যয়ও।
সুরমা চা বাগানের ম্যানেজার বাবুল কুমার সরকার জানান, আগে এই মৌসুমে প্রচুর চা পাতা সংগ্রহ হতো। এবার উৎপাদন অনেক কমে গেছে। অথচ ২ হাজার ২০০ শ্রমিকের রেশন, মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, উৎপাদন খরচ বাড়লেও সে তুলনায় বাড়েনি বাজারদর। এর সঙ্গে রোগবালাই ও বিদ্যুৎ সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ঋণ ও বিশেষ সহায়তার দাবি জানান তিনি।
একই ধরনের সংকট বিরাজ করছে তেলিয়াপাড়া, বৈকুণ্ঠপুর ও নোয়াপাড়া চা বাগানেও।
নোয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সোহাগ মাহমুদ বলছিলেন, শ্রমিক সংকটসহ নানা সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। তবে গত মাসের তুলনায় এ মাসে কিছুটা বেড়েছে উৎপাদন। পোকার আক্রমণ আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।




