হাকিমপুরে এক রাতে ১০ খড়ের পালায় আগুন, আতঙ্ক

ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় এক রাতে ১০টি খড়ের পালায় আগুনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকা জুড়ে।
পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে উপজেলার বাওনা কমিউনিটি ক্লিনিকের পানির ট্যাংকির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পানির পাইপলাইন ভাঙচুরের।
গতকাল রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের বাওনা, ইটাই ও বাশমুরি গ্রামে। গতকাল রাত ১০টার দিকে ইটাই ভূমিহীন বহুমুখী সমবায় সমিতির সামনে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলবিষয়ক কমিটি গঠন ও আলোচনা সভা চলছিল।
সভা চলার রাত ১১টার দিকে আগুন দেওয়া হয় বাওনা গ্রামে প্রথম একটি খড়ের পালায়। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আগুন নেভানোর কাজ গতকাল রাত ১টা পর্যন্ত চলার পর একই এলাকায় আবারও আগুন দেওয়া হয় আরেকটি খড়ের পালায়। এরপর দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যে ইটাই গ্রামে পর্যায়ক্রমে আগুন লাগানো হয় আরও পাঁচটি খড়ের পালায়। আজ ভোর ৪টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হয়।
হাকিমপুর ফায়ার সার্ভিস ইটাই গ্রামের আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত থাকায় সকালে ঘোড়াঘাট থেকে অতিরিক্ত একটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট এসে বাওনা গ্রামের আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে রয়েছেন মো. মিজানুর রহমান, মো. সফিউল ইসলাম, মো. জামাতি, মো. সুলতান মাহমুদ, মো. রাজ্জাক, মো. শহিদ, মো. দিলদার হোসেন, মো. রহমত আলী ও মো. মিনহাজুল ইসলাম। তাদের কয়েক বিঘা জমির খড় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, পরিকল্পিতভাবে একের পর এক খড়ের পালায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিস শুরু থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও রাত ৪টার দিকে হাকিমপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শেষে ফিরে যায়।
হাকিমপুর থানার ওসি মো. জাকির হোসেন ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। দোষীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





