সড়ক সংস্কারে দায়িত্বে অবহেলায় ৪ প্রকৌশলীকে শোকজ

লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ। ছবি: আগামীর সময়
লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা পেয়েছে পৌর প্রশাসন।
এ ঘটনায় কাজে তদারকিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে চার কর্মকর্তাকে শোকজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে প্রকল্প পরিচালকের কাছে।
রবিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন।
প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (আরইউটিডিপি) আওতায় লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় সড়ক, ড্রেন, স্ট্রিট লাইট ও ফুটপাত উন্নয়নকাজ চলছে। এর মধ্যে ত্রিমোহনী থেকে এএনএম ফজলুল করিম রোড হয়ে পলিটেকনিক রোড এবং মাওলানা রেহান উদ্দিন রোড থেকে ঢাকা-রায়পুর সড়ক পর্যন্ত উন্নয়নকাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সড়কের ম্যাকাডম স্তরে নিম্নমানের খোয়া এবং ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারকে আগেও মৌখিক ও লিখিতভাবে সতর্ক করা হলেও তিনি নির্দেশনা উপেক্ষা করে একই ধরনের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার অব্যাহত রেখেছেন। এ কারণে সব ধরনের কাজ বন্ধ রেখে তিন দিনের মধ্যে নিম্নমানের মালামাল অপসারণ করে কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজটি স্থানীয় ঠিকাদার ফিরোজ আলম কিনে নিয়েছেন। তিনি লক্ষ্মীপুরের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অঙ্গশোভার মালিক। তাদের দাবি, শুরু থেকেই তিনি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করছেন। খোয়ার পরিবর্তে রাবিশ এবং ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। রবিবার নির্বাহী প্রকৌশলীর পরিদর্শনেও অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
জুলফিকার হোসেন জানিয়েছেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে উপসহকারী প্রকৌশলী সোহাগ আলী ও কার্যসহকারী ফাহাদ হোসেনকে লিখিতভাবে শোকজ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইসহাক ও এবিএম আশরাফ উদ্দিনকে শোকজ করার নির্দেশ দিয়েছেন পৌর প্রশাসক। তবে তাদের কাছে এখনো শোকজ নোটিস পৌঁছায়নি।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সড়ক সংস্কারকাজে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোস্তফা অ্যান্ড সন্সের বিরুদ্ধে প্রকল্প পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলামকে বিষয়টি অবহিত করে তিন দিনের মধ্যে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী কাজের স্থান থেকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।





