ছেড়ে গেছেন স্ত্রী, তবুও ছাড়েননি দল : বিএনপি নেতার আশ্রয় দলীয় অফিসে

বিএনপির নেতা জাহিদুল ইসলাম
৩৬ বছর বয়সী বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলাম। শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে নিজেকে জড়ান বিএনপির রাজনীতিতে। এরপর বিএনপির সব কর্মসূচিতে করেন অংশগ্রহণ। দলের দুর্দিনে দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তবুও ছাড়েননি দল। দল না ছাড়ায় দেড় বছর আগে স্ত্রী তালাক দিয়ে চলে গেছেন। একই কারণে আগে প্রথম স্ত্রীও চলে গেছে। নেই নিজের বসতভিটা, এতদিন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে কেটেছে দিন। কোথাও থাকার জায়গা না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ওঠেন বিএনপির দলীয় অফিসে। সেখানে একটি চৌকিতে বিছানা পেতে থাকছেন বিএনপির এ নেতা।
বর্তমানে দলের সুদিন এলেও অন্যদের মতো নিজের ভাগ্যের উন্নয়ন করেননি তিনি। নিজের দলীয় পদ থাকলে তা ব্যবহার করে অবৈধ পথে করেননি অর্থ উপার্জন। সাধারণ মানুষের মতো করেছেন জীবন-যাপন। দলের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এক অনন্য উদাহরণ জাহিদুল ইসলামের।
জাহিদুল ইসলাম নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি বাঁশিলা গ্রামের আক্কাস আলী ছেলে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, টিন দিয়ে নির্মাণ বাঁশিলা ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে চৌকি পেতে আশ্রয় নিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জাহিদুল ইসলাম। মাথার নিচে বালিশ পেতে সুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। খাওয়া, ঘুম সব এখানেই।
উপজেলার বাঁশিলা ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খান সিরাজ জানান, একজন দলপ্রেমী মানুষ। সে খুবই অসহায়। রাজনীতি করার কারণে ছেড়ে গেছেন স্ত্রী। তবুও দল ছাড়েননি। এমন ত্যাগী মহৎ নেতা পাওয়া দলের জন্য সৌভাগ্য।
বিএনপির নেতা জাহিদুল ইসলাম জানান, বছরের পর বছর আমি অন্যের বাড়িতে আশ্রয় থেকেছি। আর কতদিন, আর কত বছর থাকা যায়। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে আমার স্ত্রী ছেড়ে চলে গেছেন, দিয়েছেন তালাক। তবুও রাজনৈতিক কোনো অভিভাবক খোঁজ নেননি। কেউ কথা দিয়েও কথা রাখেননি।
তিনি আরও বললেন, কিশোর বয়সে শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপিতে আসা। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সময় অনেক জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছি। বিএনপি করায় কতবার আমার ওপর হামলা হয়েছে তার হিসাব নেই। নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই। তাই বাধ্য হয়ে দলীয় অফিসে থাকছি। এ অফিস আমার থাকার ঘর।




