‘পার্বত্য অঞ্চলের কোনো শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে ঝরে পড়বে না’
- প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন
পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো শিক্ষার্থী অর্থনৈতিক টানাপোড়েন বা আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়বে না বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং তিন পার্বত্য জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, শিক্ষা সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আয়োজিত শিক্ষা বৃত্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ও নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাই একটি জাতির উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। অর্থনৈতিক টানাপোড়েন কিংবা আর্থিক সংকটের কারণে পাহাড়ের কোনো শিক্ষার্থী যাতে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকারের শিক্ষা সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অনগ্রসরতা দূর করে প্রান্তিক মানুষের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গৃহীত বিশেষ উদ্যোগগুলো অঞ্চলজুড়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা সূচনা করেছে।
তিন পার্বত্য জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার বিকাশ এবং নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে নানামুখী সরকারি সুবিধা ও প্রকল্প সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি জেলার ৭৭৮ জন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে মোট ৯২ লাখ ৫ হাজার টাকার শিক্ষা বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪৯৩ জন কলেজ শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে এবং ২৮৫ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রান্তিক এলাকায় আধুনিক ও ডিজিটালাইজড শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার অংশ হিসেবে জেলার ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে প্রথম ধাপে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ১০ জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে জেলার ৯টি উপজেলার মোট ৯০ জন সুবিধাবঞ্চিত নারীকে সেলাই মেশিন ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।




